Friday, 31 January 2020

বাংলাদেশ হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক দেশ, শান্তির দেশ লালমাইয়ে ব্যূহ চক্র মেলায় - অর্থমন্ত্রী




কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার আলীশ্বরে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আলীশ্বর শান্তিনিকেতন বৌদ্ধ বিহার ও সর্বস্তরের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে স্মরণকালের ইতিহাসে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচে বড় অনুষ্ঠান ভিক্ষু পরিবাসব্রত (ওয়াইক) ও ব্যূহ চক্র মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ জানুয়ারী সোমবার বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে আজ ৩১ জানুয়ারী মানবতার মুক্তি কামনায় প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটে। এই উপলক্ষে আলীশ্বর সহ আশপাশ এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। পুরো এলাকা সেজেছে নানান রঙ্গে। শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জড়ো হয় পুণ্যার্থীরা। বেলা ১০টার দিকে পঞ্চশীল প্রার্থনায় শুরু হয় মহাস্থবির বরণ অনুষ্ঠান। এরপর পরই শুরু হয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধর্ম দেশনা। বিকালে ভিক্ষু পরিবাসব্রত সমাপনী অনুষ্ঠান জন্মজয়ন্তীতে সভাপতিত্ব করেন পাহাড়তলী মহানন্দ সংঘ রাজ বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত ধমপ্রিয় মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বৌদ্ধ সার্ধিকের কাহিনী বিষয়ে আলোচনা করে বলেন, আমি প্রতিবছর আমার নিজ এলাকায় আলীশ্বর শান্তি নিকেতনে এসে খুবই আনন্দিত। বৌদ্ধ ধর্মের মূল মন্ত্র হচ্ছে অহিসংসা পরম ধর্ম, হানাহানি কাটাকাটি নেই, জীব হত্যা নেই, জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক। আর বাংলাদেশ হচ্ছে অসম্প্রাদিক দেশ, শান্তির দেশ। প্রতিটি ধর্ম-বর্ণের মানুষ এক হয়ে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে। সকলের রক্ত, লাখো শহীদের রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে। মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকল ধর্মের মানুষ মিলে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছে। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সকল ধর্মের মানুষ তার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। সকলে মিলেমিশে এ দেশে বাস করবে। বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ ও দারিদ্র্যমুক্ত। এ লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছে। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছে। জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। ধর্মের নাম নিয়ে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না, সে যে ধর্মেরই হোকনা কেন। আর ইসলাম শান্তির ধর্ম, সৌহার্দ্যের ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। ইসলামে জঙ্গিবাদের জায়গা নেই। যারা এসব করে তারা ধর্মবিরোধী কাজ করে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যার যার ধর্ম সে সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। এই পরিবেশটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। আসুন সবাই মিলে একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলি। আমরা সংঘাত চাই না, শান্তি চাই, সম্প্রীতি চাই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উন্নতি চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পথচলা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় মহামান্য সংঘরাজ ভদন্ত রতনজ্যোতি মহাথের, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির, ভদন্ত প্রিয়ানন্দ, ফরা বুদ্ধশ্রী মহাস্থবির, ভদন্ত জিনপ্রিয় স্থবিরসহ কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির সালেহীন ইমন,উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মালেক,অর্থমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব কে এম সিংহ রতন  ও ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজুমদারসহ প্রমুখ।

Thursday, 30 January 2020

কুমিল্লায় গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও দেড়শতাধিক কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান : কুমিল্লার সময়



কুমিল্লায় দেড়শতাধিক সমবায় এবং কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অধিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত হিসেবে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে এইসব প্রতিষ্ঠান। পরে কয়েক মাস মুনাফার লোভ দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে পুরো টাকাই আত্মসাৎ করে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

তাদের অভিযোগ, আইসিএল, আইডিএল, রুরাল (আরসিএল), এফআইসিএল, এফআইবিএল (প্রিভেল), মাল্টিভিশন, গ্লোবাল, রাজগঞ্জ প্রাইম, বন্ধন, সেমা ও সেটেলেসহ দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার গ্রাহককে প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে শতা কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা আইসিএল, আইডিএল, আরসিএল, এফআইসিএলসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ তুলে শতাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও অর্থ আত্মসাৎকারী রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, কুমিল্লা জেলায় ছোট, বড় ও মাঝারি ধরনের তিন হাজার ২০০টি সমবায় ও কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে গ্রাহকের অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং সরেজমিনে গিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ১৩০টি সমবায় এবং কো-অপারেটিভ ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের টাকা আমানত নিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা দিচ্ছে না।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইসিএল, আইডিএল, আরসিএল, এফআইসিএল, এফআইবিএল (প্রিভেল), মাল্টিভিশন, গ্লোবাল, রাজগঞ্জ প্রাইম, বন্ধন, সেমা ও সেটেলেসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তালা লাগিয়ে গ্রাহকের আমানতকৃত টাকা আত্মসাৎ করে পালাতক রয়েছে। তাদের এসব প্রতারণায় শিকার হয়ে গত ২০১৩ সাল থেকে হাজারও মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।

সাধন ভৌমিক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারের বাসিন্দা তিনি। অধিক মুনাফার প্রতিশ্রুতিতে রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) নামে একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানকে জমি বিক্রি করে ৩০লাখ ৫৭ হাজার টাকা আমানত দিয়েছিলেন। গত ২০১৩ সালের ২ মার্চ থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে রুরাল কো-অপারেটিভের নগরীর কান্দিরপাড় ব্রাঞ্চে এই টাকা আমানত রাখেন।


 
সাধন ভৌমিকের দাবি, তিনি রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) এর কাছে আসল এবং মুনাফাসহ ৫৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা পাওনা।

তিনি অভিযোগ করেন, রুরাল কো-অপারেটিভের কান্দিরপাড় ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহজাহান এবং জেনারেল ম্যানেজার আবু রায়হান তার আমানতকৃত টাকাসহ অন্যান্য গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শাহজাহান এবং রায়হানের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা সমবায় কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ২০১৭ সালে জেলা সমবায় কর্মকর্তারা তদন্ত করে সালিশির মাধ্যমে ডিরেক্টর শাহজাহান ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ম্যানেজার ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধের কথা বললেও তিন বছর পার হয়েছে কিন্তু টাকা আদায় হয়নি। জেলা সমবায় কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার জন্য বলছেন।

শুধু সাধন ভৌমিক নয় আমানতকৃত অর্থ হারিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) এর গ্রাহক মো. জামশেদ ও খোরশেদ আলম নামে আরও দুই ব্যক্তি। সাধন ভৌমিকের মত তাদেরও একই অভিযোগ।

এ ব্যাপারে ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শাহজাহান এবং জেনারেল ম্যানেজার আবু রায়হানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সহযোগিতার বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. (আরসিএল) ছাড়াও আইসিএল, আইডিএল, এফআইসিএল, এফআইবিএল’র (প্রিভেল) মত বড় বড় অর্ধশতাধিক কো-অপারেটিভ গ্রাহকের আমানতকৃত অর্থ নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন। গ্রাহকের কথা চিন্তা করে ওই সব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলও করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আমাদের সহযোগিতার জন্য আসলে সালিশির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু অভিযুক্তরা আমাদের কথা না মানলে অভিযোগকারীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ ছাড়া কিছুই করার থাকে না। এই পর্যন্ত ২৫ জনের বেশি ভুক্তভোগী গ্রাহককে অর্থ উদ্ধারে মামলায় সহযোগিতা করেছি। আজকের কুমিল্লা 

মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি শামীম, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ : কুমিল্লার সময়



মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি :
আগামী এক বছরের জন্য কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি ও সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন রুবেল আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন। আগামী ১ মাসের মধ্যে নব নির্বাচিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে কমিটি পূনাঙ্গ করার নির্দেন দেন। নতুন কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বিপ্লব কে। নব নির্বাচিত সভাপতি কামরুজ্জামান শামীমের বাড়ি ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের ঝলম গ্রামে এবং নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বিপ্লব এর বাড়ি মৈশাতুয়া ইউনিয়নের আশিরপাড় গ্রামে। নব নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। নব নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, আমরা মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ আগামী দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম মহোদয়ের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবো। এছাড়াও মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রত্যেকটি নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন।

ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ : কুমিল্লার সময়



কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বার্ষিক ক্রীড়া,সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিত ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২০ আজ ৩০ জানুয়ারী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে 
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সামছুউদ্দিন কালু ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কে এমন সিংহ রতন, নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র আব্দুল মালেক, নাঙ্গলকোট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  আবু ইউসুফ ভূঁইয়া , নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সুমন প্রমুখ।

Wednesday, 29 January 2020

লাকসামে ঔষধ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ভোগান্তীতে জনসাধারণ : কুমিল্লার সময়




লাকসাম প্রতিনিধিঃ

লাকসাম ঔষধ ব্যবসায়ীদের ৬ঘন্টা ধর্মঘটের কারনে চরম ভোগান্তীতে পড়েছে জনসাধারণ। বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলে। এ ঘটনায় ঔষধ ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঔষধ ব্যবসায়িদের লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধায় ঔষধ ব্যবসায়ি সমিতির সভা চলাকালে লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের মোবাইল ফোনে সমিতির সাধারন সম্পাদক লুৎফুল হাছান কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও লাকসাম থেকে বিতাড়নের হুমকি প্রদান করে। এর প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দৌলতগঞ্জ বাজার ও লাকসাম জংশন বাজার ঔষধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানায়।

এ ঘটনায় ঔষধ ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঔষধের দোকান বন্ধ থাকায় ভোগান্তীতে পড়ে জনসাধারন।

ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল হাছান জানায়, পৌরসভার মেয়র আমাকে ও আমাদের সমিতি নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং লাকসাম থেকে বিতাড়নের হুমকি প্রদান করার প্রতিবাদে ঔষধ ব্যবসায়ীরা ৬ ঘন্টা দোকান বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করে।

লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, আমি কাউকে গালাগালি করিনি। ঔষধের মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখেন।

Tuesday, 28 January 2020

লাকসাম পৌরসভায় কাউন্সিলর পদে আলোচনায় লুৎফুল হাছান





 
লাকসাম প্রতিনিধি :
কুমিল্লা লাকসাম পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড পাইকপাড়া,কুন্দ্রা,বড়তুপা,ডুরিয়া বিষ্ণুপুর, বাইনচাটিয়া, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনার তুঙ্গে ঔষধ ব্যবসায়ী মোঃ লুৎফুল হাছান। স্থানীয়দের হৃদয় জয় করা এই সফল ও তরুণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়।

 লুৎফুল হাছান পৌরসভার ডুরিয়া বিষ্ণুপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ্ব মোঃ আবুল বাশার পৌরসভার সাবেক কমিশনার ছিলেন।  নিজের শ্রম এবং মেধায় ইতিমধ্যেই কুড়িয়েছেন সফল ব্যবসায়ীর খেতাব। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথেই রয়েছে তার সখ্যতা। নিজের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়াচ্ছেন বিপদগ্রস্ত  মানুষের পাশে। জড়িত আছেন বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথেও।

স্থানীয়দের চায়ের আড্ডায় এখন প্রায়ই আলোচনার বিষয় বিনয়ী তরুণ এই ব্যবসায়ীর নাম। অনেকেই মুগ্ধ তার আচরণে। পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে হাছান। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে তরুণ ব্যবসায়ী লুৎফুল হাছানকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। 

গত পৌর নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। বিপুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দিয়ে তিনি নির্বাচনে হেরে যান। 

শুধু চায়ের আড্ডায় নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে তরুণ এই ব্যবসায়ীর গুণকীর্তন। স্থানীয়রা ছাড়াও এলাকার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার-প্রচারণা  করছেন এই ব্যবসায়ীকে নিয়ে। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লুৎফুল হাসানকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চান তারা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন হাসান। 

Monday, 27 January 2020

বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং ও টাকা নষ্ট করার স্থান নয় : রাষ্ট্রপতি






কুমিল্লার সময়:  
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী ও ক্রীড়া সংগঠক আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

ষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য মো. আবদুল হামিদ বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজ এই আনন্দঘন সমাবর্তনের মাধ্যমে যারা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভূষিত হলো আমি তাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজকের দিনটি গ্র‍্যাজুয়েটদের কাছে যেমন স্মরণীয়, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাইলফলক।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, এ সমাবর্তন শিক্ষা জীবন শেষ করছে না বরং শিক্ষার সমুদ্রে প্রবেশ করাচ্ছে। শুধু নিজের কথাই ভাববে না। মানুষ ও সমাজের কথা ভাবতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় কুমিল্লা পড়ালেখায় পুরো দেশে এক নম্বর ছিলো। এখন অবাধে মাদক সেবন চলে। মাদক প্রবেশের যত রাস্তা আসে তার মধ্যে কুমিল্লা অন্যতম। আমি কুমিল্লার সবাইকে বলতে চাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের বড় অবদান ছিলো। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখন নতুন করে আবার সংগ্রাম করতে হবে। আর এ সংগ্রাম হবে মাদকের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন মাদকের নাম উল্লেখ করে ছাত্রসমাজকে এসব রুখতে বলেন। ছাত্রসমাজ যেনও মাদকে পা না বাড়ায় তার জন্য কাজ করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের তিনি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, শিক্ষার সাথে মানবিক মূল্যবোধ পৃথিবীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কার্যকর থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি বড় অবদান রাখবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি। এসময় রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, এবারের সংগ্রাম সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত সুন্দর হোক কামনা করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান অর্জনের স্থান। র‌্যাগিং ও টাকা নষ্ট করার স্থান নয়। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে টাকা পাঠায় তা মনে রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণী কক্ষে পাঠদান নয়। পাঠদানের পাশাপাশি তাদেরকে জ্ঞানের মশাল জ্বালাতে হবে। শিক্ষার্থীদের মননে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে শিক্ষকদের।

বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন,’বঙ্গবন্ধুর কারণে আমরা এ দেশ পেয়েছি। আর তাই সকলকে সবসময় তাকে মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রধানমন্ত্রী অনেক টাকার বাজেট দিয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ইংল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের ইন্টারনেট সংযোগ অনেক ভালো। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে বলেন তিনি।

সমাবর্তনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চেীধুরী এমপি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তনে ২ হাজার ৮৮৮ জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ১ হাজার ২২২ জন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৬৬৫ জনকে ডিগ্রী প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া শিক্ষায় অসমান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি।