Sunday, 14 June 2020

লালমাইয়ে আরও দু’জন করোনা আক্রান্ত : কুমিল্লার সময়



 

প্রদীপ মজুমদার : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় আরও দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রবিবার নতুন দু’জনের আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়াশীষ রায় । আক্রান্তরা হলেন উপজেলার বাগমারা উত্তরের দত্তপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ও বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী রাধাকৃষ্ণ বণিক। তাদের দু'জনের বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লকডাউন করা হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ১৬ জন। এরমধ্যে ০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ও সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। 

ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত বলেন , আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যরা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

তিনি জানান, উপজেলায় নমুনা সংগ্রহ চলমান রয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দিন দিন যেভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে লালমাই উপজেলা সংকটময় হতে পারে। তাই সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। 

লালমাই উপজেলায় সংগৃহীত মোট ৩১৬ টি নমুনার মধ্যে ২৭২ টি নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে। 

বুঝাইলে বুঝে” মোহাম্মদ আইয়ুব : কুমিল্লার সময়




১১ই জুন‍’ ২০২০ বিকাল ৫ টা। একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলাম। একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে বার বার কল আসছিলো। রিসিভ করার সুযোগ ছিল না। কয়েকবার আমি মিটিং-এ আছি ম্যাসেজ সেন্ড করলাম। কোন লাভ হলো না। আবার কল। রিসিভ করে সালাম দিয়ে বললাম, ”আমি মিটিং এ আছি”। বেশি জরুরি না হলে আধা ঘন্টা পরে কল দেন। আচ্ছা, ঠিক আছে- বলে ফোন কেটে দেন। আমিও স্বস্তি পেলাম। হয়ত তেমন জরুরি কিছু না।

আধাঘন্টা পর কনফারেন্স শেষ হলো। আমি ঐ নাম্বারে কল ব্যাক করলাম। রিসিভ করেই সালাম দিয়ে তাঁর পরিচয় দিলেন। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন সম্মানিত জনপ্রতিনিধি।

কুশল বিনিময়ের পর যা বললেন, তাতে কিছুটা অস্বস্তিবোধ করলাম। যা শুনবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। যদিও অনুরুপ ঘটনা দেশের কোথাও যে ঘটেছে না, এমন নয়।

তিনি বললেন, তাঁর এলাকার একজন লোক চট্টগ্রামে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ বিকালে মারা গেছেন। তার আত্মীয় স্বজনদের বলেছিলেন, চট্টগ্রামে দাফন করে ফেলতে। কিন্তু তারা শুনলো না। লাশ নিয়ে রওনা করেছে। কবরস্থানে কবর খুড়ছে। অন্যদিকে আতঙ্কিত লোকজন জড়ো হচ্ছে। লাশ নিয়ে এলাকায় ঢুকতে দেবে না। লাশ দাফনে বাধা দিবে। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হতে পারে। আপনি কিছু পুলিশ পাঠান।
 
আমি তাকে বললাম,- এই লোক যে করোনা আক্রান্ত ছিলেন, এটা কি শিউর ? 
-হ্যাঁ, শিউর।
কিভাবে শিউর হলেন ? পরীক্ষার রিপোর্ট কী দেখেছেন ?
-না। শুনেছি। 
তার মানে নিশ্চিত নন । আমিও চট্টগ্রাম থেকে সরকারিভাবে কোন করোনা রোগীর লাশ প্রেরণের বার্তা বা ই-মেইল পাইনি। সুতরাং আমি তাকে করোনা আক্রান্ত ছিল বলতে পারি না। 
    
      আমি পুলিশ পাঠাবো না । কিছু কথা বলছি, মনোযোগ সহকারে শুনুন। তারপর লাশ দাফনে যারা বাধা দিতে জড়ো হচ্ছে, তাদের বুঝাবেন। আশা করি তারা বুঝবেন। 
      বিশ্ব স্বাস্থ্য  সংস্থা ও  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেল্থ বুলেটিন থেকে আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি করোনা কিভাবে ছড়ায়-
• আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে। 
• আক্রান্ত ব্যক্তির কথা বলা থেকে।
• আক্রান্ত ব্যক্তি যেখানে সেখানে থুতু ফেললে।
• আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে হ্যান্ডশেক করলে।
• আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কোলাকুলি করলে।
• আক্রান্ত ব্যক্তি লোকালয়ে ঘোরাঘুরি করলে। 
ঠিক কি না ?
-ঠিক। 
এবার আমাকে বলুন-
ঐ লাশ কি কথা বলে ?
-না। 
হাঁচি দেয়?
-না।
কাশি দেয় ?
-না। 
হ্যান্ডশেক করে ?
-না। 
কোলাকুলি করে ?
-না। 
যেখানে সেখানে থুতু ফেলে ?
-না। 
লোকালয়ে ঘোরাঘুরি করে ?
-না। 
     তাহলে তার কাছ থেকে করোনা ছড়াবে কি করে ?
করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির চেয়ে করোনা আক্রান্ত জীবিত ব্যক্তি হাজার গুন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আমার জানা মতে, এই পর্যন্ত একটিও প্রমানিত ঘটনা নেই যে, করোনায় মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি গুলো মেনে মৃতের গোসল দিলে, জানাযা পড়লে, সৎকার করলে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুসারে সঠিক সৎকার পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না।  
      একটু ভেবে দেখুন। একজন মানুষের অন্তিম বিদায়ে, শেষ যাত্রায় ও দাফনে বাধা। কতই না মর্মস্পর্শী, হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক ! 
    
      ঐ লোকটির বাড়ি আপনার এলাকায়। চাকরি করতেন চট্টগ্রামে, তাইতো ? 
-হ্যাঁ। 
    
আচ্ছা, আমার বাড়ি তো কক্সবাজার, চাকরি করি আপনাদের এলাকায়। প্রতিদিন আপনাদের এলাকায় করোনা আক্রান্ত কোন না কোন রোগীর বাড়িতে যাচ্ছি। করোনায় মৃত্যু বরণ করা ব্যক্তির জানাযায় যাচ্ছি। লাশ দাফনে যাচ্ছি। করোনা রোগীর স্যাম্পল কালেকশনে স্বাস্থ্য কর্মীকে সহায়তা করতে যাচ্ছি। করোনা রোগীকে আইসোলেশনে থাকা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি। করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করতে যাচ্ছি। আবার কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের ফোন পাওয়া মাত্রই সরকারী খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। করোনা রোগীর বাড়ি লকডাউন করতে যাচ্ছি। লকডাউনে থাকা করোনা সনাক্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করতে যাচ্ছি। অন্য এলাকা থেকে ও হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসা করোনা রোগীকে আটক করে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি অথবা আইসোলেশনে রাখছি। আরো কত কি ! অর্থাৎ প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসছি। 

     ধরুন, আগামীকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে আমি মৃত্যুবরণ করলাম। তাহলে আমার লাশটা কি কক্সবাজার আমার বাড়িতে পাঠাতে দিবেন না ? যে বাবা-মা মাথার ঘাম পায়ে, ফেলে, লালন-পালন করে, পড়া-লেখা শিখিয়ে, আপনাদের সেবা করার উপযুক্ত করে পাঠালেন, তাদের প্রিয় সন্তানের অন্তিম শয্যার চেহারা শেষ বারের মতো দেখতে দিবেন না ? আমার জনম দুখিনী মা, যে আমার আসার প্রহর গুনে পথ পানে চেয়ে থাকে, সে মাকে হৃদয় ভাঙ্গা করুন আর্তনাদের সুরে, ’আমার পুত আসছে নাকি’ বলার সুযোগ দিবেন না ? আমার বোনদের ভাই হারানোর জমাট ব্যাথা বিলাপ করে বুক হালকা করতে দিবেন না ? ”আমার ভাই চাকরির কারণে দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে ছিল। কেউ কোন দেনা পাওনা থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি মিটিয়ে দিব। আমার ভাইকে সবাই মাফ করে দিবেন”- জানাযার আগে আমার ছোট ভাইকে এই কথাটা বলার সুযোগ দিবেন না ? 
-প্লিজ, আর বলবেন না, স্যার। আসলে আমরা এভাবে কখনো ভেবে দেখিনি। আমি এখনি সবাইকে আপনার কথা গুলো শুনিয়ে দিচ্ছি। লাশ দাফনে কাউকে বাধা দিতে দিব না। স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমি নিজেও জানাযায় অংশ নিব। 
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার। 
-আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। 
 পরের দিন একজন প্রফেসর সাহেবের মাধ্যমে খবর নিলাম। ঐ লোকের লাশ এলাকায় আনতে এবং দাফন-কাফনে কোন সমস্যা হয়নি। আশা করি আজ থেকে করোনা আক্রান্ত মৃত দেহ দাফনে কেউ বাধা দিবেন না। কারো অধিকার হরণ করবেন না। স্বাস্থ্য বিধি মেনে লাশ সৎকারে সহায়তা করে নিজ নিজ ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করবেন। 
লেখক-
অফিসার ইনচার্জ
লালমাই থানা, কুমিল্লা।
 তাং-১৩/০৬/২০২০ খ্রিঃ।

সেলাই মেশিন পেলেন ১৫ কর্মহীন নারী : কুমিল্লার সময়





প্রদীপ মজুমদার :
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ জনিত কারণে ঘরে বসে উপার্জন করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে  ২নং বাগমারা দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লোকমান হোসেনের উদ্যোগে আজ ১৪ জুন রবিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১৫ জন দরিদ্র ও কর্মহীন মহিলার মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো আবদুল মালেক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. ইয়াসির আরাফাত।

Wednesday, 10 June 2020

দেশের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ নতুন বাজেট করোনা সংকটের মধ্যেই কাল উপস্থাপিত হবে : কুমিল্লার সময়






পি কে মজুমদার  : 
করোনা পরিস্থিতির অবরুদ্ধ সময়কে ছাপিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য মোট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন। এরমধ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। বাজেট উপস্থাপনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে আ হ ম মুস্তফা কামালের দ্বিতীয় বাজেট। গত বছর অর্থমন্ত্রী হিসেবে জীবনের প্রথম বাজেট (২০১৯-২০ অর্থবছর) জাতীয় সংসদে উপস্থাপন শুরু করে বাজেট বক্তৃতা বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা পাঠ করার পর আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বাকি বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, প্রথা অনুযায়ী বাজেট পেশের পরদিন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। এটিও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে দুই মেয়াদের অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১০টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।

এদিকে, বাজেট উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ১০ জুন বুধবার থেকে জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বিকাল ৫টায় বসছে সংসদের এই অধিবেশন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে ঘাটতির (অনুদানসহ) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটের ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। যা এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের বিপরীতে নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আগামী বছর কর রাজস্ব আহরণ করতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণ করতে হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ হাজার ৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এরমধ্যে আবর্তক ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আবর্তক ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর বাইরেও সম্পদ সংগ্রহ, ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ ও পূর্তকাজ, শেয়ার ও ইক্যুইটিতে বিনিয়োগসহ মূলধনী ব্যয় হবে ৩৬ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ঋণ ও অগ্রিম বাবদ ৪ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং খাদ্য হিসেবে ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে এক লাখ ৯ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেবে। এরমধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি, সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি এবং অন্যান্য ঋণ নেবে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী বছরে বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ ৫২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের জিডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট জিডিপি টাকার অঙ্কে ধরা হয়েছিল ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ কোটি। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে এটি কাটছাঁট করে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকায় কেনা জমি-ফ্ল্যাট বৈধ করার সুযোগ থাকছে। এজন্য প্রতি বর্গমিটার হিসাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের কর দিতে হবে। একই সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। এছাড়া পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা রোধে বাড়তি করারোপের বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের রফতানিতে উৎসে কর বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বাজেটে আয়কর খাতে শর্তসাপেক্ষে ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারবেন যে কেউ। এছাড়া অপ্রদর্শিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র রিটার্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মোট অঙ্কের ১০ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে এক হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা। করোনার কারণে আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আর্থিক সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ বাড়িয়ে ৯৭ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ রয়েছে বাজেটে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কৃষি খাতকে। ফলে আগামীতে কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। আর অন্যান্য খাতে ভর্তুকি মিলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন ৫ লাখ আয়কর দাতাকে করজালে যুক্ত করা হবে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নতুন আয়করদাতার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ২৩ হাজার। করোনাভাইরাসের কারণে আসন্ন বাজেটে এ সংখ্যা কমানো হচ্ছে।

নতুন অর্থবছরের এডিপিতে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া ১০টি খাত হচ্ছে: ১. পরিবহন; ২. অবকাঠামো, পানি ও গণপূর্ত; ৩. বিদ্যুৎ; ৪. শিক্ষা ও ধর্ম; ৫. বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি; ৬. পল্লি উন্নয়ন ও পল্লি প্রতিষ্ঠান; ৭. স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ; ৮, কৃষি; ৯. পানিসম্পদ ও ১০. জনপ্রশাসন। এই ১০ খাতে বরাদ্দ মোট এডিপির ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

নতুন বাজেটে সরকারের চলমান ৭ মেগা প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ ৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। মহেশখালী মাতারবাড়ির কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বরাদ্দ ১৫০০ কোটি টাকা।

এদিকে, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০ মন্ত্রণালয় হচ্ছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল খাঁন এর ১৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন : কুমিল্লার সময়





প্রদীপ মজুমদার : প্রবীন রাজনীতিবিদ, লাকসাম পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র, কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সহ - সভাপতি, বাংলাদেশ পৌরসভা চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোস্তফা কামাল খাঁনের ১৩ তম মৃত্যু বার্ষিক আজ বুধবার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড মিশ্রীতে পারিবারিক ভাবে মিলাদ ও দোয়া পালন করা হয়। সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযুদ্ধা ২০০৭ সালের ১০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে মারা যান। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা, এবং ৭১ এর যুদ্ধকালীন সময় মুজিব বাহিনীর লাকসাম ও হাজীগঞ্জ এলাকার প্রধান ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বাংগালীর মুক্তির সনদ ৬ দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম ১৯৯৬  সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লাকসাম পৌরসভার উন্নয়নে দীর্ঘ ৯ বছর কাজ করেন তিনি। 
লাকসামের উন্নয়ন ও মানুষের জন্য কাজ করে জীবন যৌবন উৎসর্গ করা এই গুণী মানুষটিকে স্বরণ রাখেননি স্হানীয় নেতৃবৃন্দ। 

প্রবীণ এ নেতার মৃত্যুর পর থেকে জেলা ও উপজেলা  আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোন শোক ও স্মরণ সভাও করা হয়নি। এমনকি এ নেতার নামে আজ পর্যন্ত লাকসামে কোন জায়গা তার নামে নামকরণ করা হয়নি। লাকসামের বিভিন্ন অলি গলির বিভিন্ন সড়ক সহ বিভিন্ন স্থানের নামে নাম করণ করা হয়েছে। সেখানে কেন একজন আ’লীগ নেতা ও বীরমুক্তিযোদ্ধার নামে সড়কের নামকরণ করা হবেনা এ আক্ষেপ ওই পরিবারের।  এদিকে, এ নেতার স্মৃতি ধরে রাখতে লাকসামে মোস্তফা কামাল খাঁনের নামে নামকরণের দাবী জানিয়েছে তার পরিবার। তারা এব্যাপারে ভূমিকা রাখতে মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও পৌর মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সাহসী কাজের জন্য পুলিশ সুপার কর্তৃক পুুরস্কৃত হলেন গ্রাম পুলিশ : কুমিল্লার সময়



  

প্রদীপ মজুমদার : কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাতীলোটা গ্রামের চারআনী বাড়ীতে রাতের আধারে  বসত ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে নারী হত্যা চেষ্টায় ৩ আসামীকে পুলিশে সোপর্দ করায় সাহসী এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ওই গ্রামের গ্রাম পুলিশ সোহাগ সর্দার ও প্রতিবেশী খোরশেদ আলমকে পুরস্কৃত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার । আজ বুধবার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম( বার)  এর পক্ষে তাদের শুভেচ্ছা উপহার ও অর্থ তুলে দেন লালমাই থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আইউব। 
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাতীলোটা গ্রামের পারভীন আক্তারের মেয়ে সালমা কুমিল্লা ইপিজেড এ চাকুরী করার সুবাদে আসামী আবু তাহেরের সাথে ৩ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। পরবর্তীতে আবার তালাকও হয়। তালাকের পর ওই মেয়েকে আবু তাহের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি ও উত্ত্যক্ত করতে থাকলে উপায় অন্তর না দেখে সালমা তার হাতীলোটা গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। গত ৭ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১.৩০ টায় আসামী কুমিল্লা সদরের বারপাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে (সাবেক স্বামী)  আবু তাহের তার সহযোগী বারপাড়া এলাকার শুভ মিয়া ও মিঠুন সহ এ্যাম্বুলেন্স করে হাতীলোটা আসে। তারা সালমাদের বাড়ীর সবকটি ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দিবে এমন সময় ওই বাড়ীর খোরশেদ আলম টের পেয়ে চিৎকার করলে গ্রাম পুলিশ সোহাগ সর্দার সহ গ্রামবাসীরা এ্যাম্বুলেন্স সহ তাদের পাকড়াও করে লালমাই থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। 
গ্রাম পুলিশ সোহাগ সর্দার ও প্রতিবেশী খোরশেদ আলমের সাহসীকতা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কুমিল্লার  পুলিশ সুপার তাদের পুরস্কৃত করেন। 

এব্যাপারে গত ৮ জুন লালমাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী ২০০৩) এর ৪(৩)৩০ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। 

লালমাই থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আইউব বলেন গ্রাম পুলিশ ও প্রতিবেশী খোরশেদ আলমের সাহসীকতায় অনেকগুলো পরিবারের জীবন রক্ষা হয়েছে। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম (বার) মহোদয় তাদের পুরস্কৃত করেছেন। এভাবে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নারী শিশু নির্যাতনে পুলিশের পাশাপাশি  সমাজের লোকজন এগিয়ে আসলে সমাজের সকল অসংগতি দূর করতে সহজ হবে। 

Monday, 8 June 2020

লাকসাম থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচল করছে ট্রেন: কুমিল্লার সময়



প্রদীপ মজুমদার :  করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে দুই মাস সময় ধরে বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনারবাংলা, নোয়াখালী টু ঢাকা উপকূল এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম হতে চাঁদপুর মেঘনা এক্সপ্রেস,সিলেটের উদয়ন এক্সপ্রেস লাকসাম জংশন হয়ে চলাচল করছে।

গত ৩১মে রোববার সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনটি ছেড়ে যায় বলে জানান পূর্ব রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) আনসার আলী।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ‘ব্যাপক সতর্কতামূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লাকসাম রেল স্টেশনের প্রবেশমুখে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রাও পরিমাপ, অনলাইনে কাটা টিকেট দেখে  স্টেশনে প্রবেশ করানো হয়। ফলে বিনা টিকেটে রেলে চড়াও বন্ধ হয়েছে বলে জানান রেল কর্মকর্তা। 

এছাড়া স্টেশনে ঢোকার মুখেই যাত্রীরা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে প্রবেশ করছে কি না তা রেলওয়ে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, রেলপুলিশ ও রেলের কর্মীরা নিশ্চিত করছেন। যাত্রীদের প্রত্যেককে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। কম ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পরিবহনের সুযোগ আছে লাকসাম রেল স্টেশন থেকে। 

এসময় রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লাকসাম রেলওয়ে শ্রমিকলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাছান আহমেদ পলাশ বলেন,  স্হানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এর নির্দেশনায় লাকসাম রেল স্টেশনের সর্বত্র যাত্রীদের সুরক্ষায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেনের বগিও জীবানুমুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের এক গেইট দিয়ে প্রবেশের পর অপর গেইট দিয়ে নির্গমনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বগিতেও সেনিটাইজার রাখা আছে। ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মীরাও স্বাস্থ্য বিধি মেনে কাজ করছেন। তাদের মাস্ক, গ্লাভস পড়া নিশ্চিত করা হয়েছে। লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনের  কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন যাত্রীদের। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর গণপরিবহন বন্ধের অংশ হিসেবে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বন্ধের পর ৩১মে থেকে সীমিত পরিসরে শুরু হল ট্রেন চলাচল। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও সিলেট, চাঁদপুর, নোয়াখালী ট্রেন চলাচল করছে। 
প্রতিটি ট্রেনের শুধু বেজোড় নম্বরের টিকেটগুলো শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে।