Thursday, 23 April 2020

অসহায় আত্ন মানবতার সেবায় চিত্রনায়িকা নিঝুম : কুমিল্লার সময়




ইউনিভার্সেল কামালঃ
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী ও অসহায় দরিদ্র, মানুষের মাঝে

আসন্ন রমজান উপলক্ষে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিজ গ্রাম ও তার আশেপাশের কিছু পরিবারকে ইফতার সামগ্রী উপহার দিয়েছেন কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার চৌকনন্দী গ্রামের মেয়ে চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনা ।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির কারনে ইতোমধ্যেই কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে।এ লকডাউনের কারনে চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনা বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। নিজের কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় নিজের পরিবার ও এলাকার মানুষের সাথে সময় কাটাচ্ছেন।বাড়িতে বসেই থেকেই অংশ নিচ্ছেন সামাজিক ও মানবিক কাজে ।

এ প্রসঙ্গে নিঝুম বলেন, সামনে রমজান মাস। সেজন্য প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ইফতার সামগ্রী উপহার হিসেবে দিয়েছে। করোনার কারনে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে নিজ গ্রাম ও পাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি।

তিনি জানান, করোনার ভয়াল থাবায় লকডাউনের শুরু থেকেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ । সেজন্য কর্মীদের জন্যও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তিনি। যারা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাদের প্রতিও আমার একটি দায়িত্ব আছে। আমি তাদের বেতন, বোনাস দিচ্ছি। প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। এর বাইরে ঢাকায়ও কিছু মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।

সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়ে নিঝুম বলেন, আমি চাই আমার মতো যাদের পক্ষে সম্ভব তারাও এগিয়ে আসবেন। সহযোগিতা করবেন সাধ্যমতো। আমরা সকলে যদি এগিয়ে আসি তাহলে মানুষ অভুক্ত থাকবে না। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন মানুষের পাশে সবসময় থাকতে পারি।

এ সময় উদ্দীপন বাগমারা’র স্বেচ্ছাসেবক নুরে আলম বাবু, জাহিদ হাসান মুরাদ, হিমেল সহ অনেকে তাকে সহায়তা করেছেন। উদ্দীপন বাগমারা’র পক্ষ থেকে চিত্রনায়িকা নিঝুম কে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, নিঝুম তার ফ্যান ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন উদ্দীপন বাগমারা’র মাধ্যমেও বিভিন্ন মানুষকে দীর্ঘদিন থেকে সহায়তা দিয়ে আসছেন।

লালমাইয়ে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ইফতার উপহার সামগ্রী বিতরণ : কুমিল্লার সময়





প্রদীপ মজুমদার : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল করোনার প্রাদুর্ভাব এর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া বেকার, ঘরবন্দী, অসহায় পরিবারের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী বিশিষ্ট সংগঠক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপুর নেতৃত্বে ইফতার উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী উপজেলার বাগমারা উত্তর, বাগমারা দক্ষিন, ভূলইন উত্তর, ভূলইন দক্ষিন, পেরুল উত্তর, পেরুল দক্ষিন, বেলঘর উত্তর, বেলঘর দক্ষিন ও বাকই উত্তর সহ ৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের হাতে সর্বমোট এক হাজার পরিবারের মাঝে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. ইয়াসির আরাফাত।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব, দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মোঃ সবুজ, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল হক মুন্সী ও সাধারন সম্পাদক মো: নুরুল ইসলাম, বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মনির হোসেন, লালমাই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: শাহ আলম,সাবেক ছাত্রনেতা হাসান শরীফ মজুমদার, সোলায়নাম, এবং লালমাই প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পূর্বে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য পি পি ই বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সহযোগিতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন, লালমাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ও লালমাই ফেন্ডস সোসাইটি।
দিনব্যাপী ইফতার উপহার সামগ্রী বিতরণ শেষে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপু বলেন, আমাদের সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মোতাহার হোসেন ভূঁইয়া জুয়েল ব্যস্ততার কারণে থাকতে পারেননি তিনি সাংবাদিকসহ যারা এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণে সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সবাইকে লালমাই উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। অধ্যাপক অপু বলেন এই মহামারী ঠেকাতে আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে সহায়তা করলে কোন মানুষ কষ্টে থাকবেনা।
সমাজের বিত্তবানদের দূর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানান। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে কৃষকদের পাশে থেকে ধানকাটায় সহায়তার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

লালমাইতে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পিপিই পেলেন সাংবাদিকরা : কুমিল্লার সময়




প্রদীপ মজুমদার : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট( পিপিই) উপহার পেলেন সাংবাদিকরা। করোনার মহামারীতে জীবনের ঝুকি নিয়ে মাঠে দায়িত্বপালন করছেন সাংবাদকর্মীরা। সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য পিপিই দিলেন লালমাই উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি । 

বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম ইয়াসির আরাফাত ও দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি প্রবাস বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপু মাঠে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত ১০জন  সাংবাদিকের হাতে এই পিপিই তুলে দেন। এছাড়া দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি তাদের সদস্যদের মাধ্যমে উপজেলার এক হাজার অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও বিতরণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আইউব, বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহআলম,বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল হক মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা হাসান শরীফ মজুমদার, সোলায়মান, লালমাই প্রেস ক্লাবের অর্থ -সম্পাদক প্রদীপ মজুমদার, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জুয়েল রানা, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দীন, ক্রিয়া সম্পাদক মীর হোসেন, সহ ক্রীড়া সম্পাদক আলমগীর হোসেন অপু, সহ- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু জাফর মোঃ সালেহ,দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন,আমান নূর প্রমুখ। 

পিপিই বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউএনও বলেন,সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। তাই যারা ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছে তাদের কিছু পিপিই উপহার হিসাবে প্রদান করেছে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি তাদেরকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই ।  অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপু বলেন আমিও একজন সংবাদকর্মী। করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিরলস চেষ্টার কারণে মানুষ ঘরে বসে সঠিক খবরগুলো পাচ্ছে। অথচ তাদের সুরক্ষায় কেউ এগিয়ে আসছে না। এটি পরিলক্ষিত হওয়ায় যারা মাঠে কাজ করছে তাদের জন্য আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে পি পি ই বিতরণের উদ্যোগ নেই। 

জগতপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থার মানবিক খাদ্য সহায়তা : কুমিল্লার সময়





প্রদীপ মজুমদার : লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে স্বেচ্ছায় গৃহে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বৃহস্পতিবার সকালে (২৩এপ্রিল) সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মানবিক খাদ্য সামগ্রী সহায়তা দিয়েছেন জগতপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা। ওই গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রবাসীদের অর্থায়নে যুব সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ওয়ার্ডের প্রায় একশত ২০ পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন।
সংগঠনের সভাপতি শরীফুল ইসলাম রুবেল জানান, প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মক্ষম মানুষগুলো স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী। এতে তাদের খাদ্য সমস্যা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের গ্রামের ধনীদের ও প্রবাসী সহ যুব সমাজের সহায়তায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মানবিক খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাউল,ডাল,ছোলা,তেল, আলু,মুড়ি,পেঁয়া, সাবান দিয়েছি। যতদিন এই প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের খাদ্য সমস্যা থাকবে আমরা তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করে যাবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ওই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোঃ আমিনুল ইসলাম, সাবেক মেম্বার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আবু জাফর মোঃ সালেহ, উপদেষ্টা অহিদুল ইসলাম, সমাজ সেবক মোঃ ইদ্রিস মিয়া, গ্রাম সর্দার ইউনুস মিয়া, দুলাল মিয়া, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গণি, সদস্য নাসির উদ্দীন, ওমর ফারুক, শুকোর আলম,শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।
সংগঠনটি ইতিপূর্বে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ব্লাড ক্যাম্পেইন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ সহ সচেতনতা মূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

লালমাইতে কর্মহীন মানুষের পাশে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হোসেন থাই এ্যালুমিনিয়াম : কুমিল্লার সময়





প্রদীপ মজুমদার : করোনাভাইরাসের প্রভাবে ‘ঘরবন্দি’ মানুষ। সবচেয়ে কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের লোকেরা। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের সৈয়দপুর সহ আশেপাশের এমন কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাগমারা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন থাই এ্যালুমিনিয়ামের স্বত্বাধিকারী মোঃ হোসেন । আজ বৃহস্পতিবার সকাল তিনি সৈয়দপুরে ১১০টি  অসহায় পরুিবারের মানুষের ঘরে ঘরে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেন।
ইফতার সামগ্রীর মধ্যে ছিলো খেজুর,ছোলা,পেয়াজ, মুড়ি,তেল,ডাল,চিনি,সাবান।  নিজস্ব অর্থায়নে তিনি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রথম থেকেই অসহায় মানুষকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। নিজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন হোসেন থাই এ্যালুমিনিয়ামের মোঃ হোসেন। তিনি বলেন পুরো দেশ আজ করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগে স্তব্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েক যুগে প্রিয় মাতৃভূমির এমন পরিস্থিতি আর কেউ কখনও দেখেনি। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে প্রায় ৬ কোটির মতো মানুষ রয়েছে যারা অসহায়, গরিব, দুঃস্থ। দিনে একবেলা খাবার জোটাতে যাদের হিমশিম খেতে হয়। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তারাই আজ সব চাইতে বেশি বিপদে। নেই কোনও আয়-রোজগার, তাই পেটেও নেই খাবার। এই মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানো মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। তারই অংশ হিসেবে আজ সৈয়দপুর সহ আশেপাশের সকল অসহায়, দুঃস্থ ও গরিব লোকদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যমান মনে হচ্ছে।
আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তাদের পাশে দাঁড়াই। সবাই ভালো থাকুক এবং এ মহামারি থেকে আমরা সবাই যেন মুক্তি পাই। এর কারণে আমাদের বাংলাদেশের কোনও মানুষের যেন মৃত্যু না ঘটে। আমার জায়গা থেকে কিছু করার চেষ্টা করছি। আমি সবার উদ্দেশে বলব, আপনারা যার যার জায়গা থেকে যে যতটুকু পারেন মানুষকে সাহায্য করুন।

Wednesday, 22 April 2020

লালমাইয়ের ইউএনও এক ক্লান্তিহীন যোদ্ধা : কুমিল্লার সময়





মজুমদার প্রদীপ : ক্লান্তিহীন ছুটে চলা যোদ্ধা লালমাই উপজেলার ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত।  বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস নিস্তব্ধ ও অচল করে দিয়েছে গোটা বিশ্ব। তারই ছোবলে আজ আতঙ্কে গৃহবন্দি বাংলাদেশের মানুষ। ইট পাথরের বৃহদাকার রাস্তাগুলো আজ যানবাহন ও জনমানবশূন্য। সবকিছুই যেন প্রাণহীন। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেয়া মরণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইয়াসির আরাফাত।

উপজেলায় বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীরের নেতৃত্বে সরকারী নিদের্শনা মেনে ইতোমধ্যে উপজেলাকে লকডাউন ঘোষনা করেছেন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন তিনি। লকডাউন ঘোষনার পূর্বেই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের যত্রতত্র জায়গায় ঘোরাফেরা না করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেন এবং অবসর সময় কাটানোর জন্য বই ও ফুল উপহার দেন যা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।


উপজেলার পাশ্ববর্তী পশ্চিমে বরুড়া, দক্ষিণে লাকসাম, উত্তরে সদর দক্ষিণ এবং পূর্বে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হলেও বহিরাগত প্রবেশে ইউএনওর কঠোর তৎপরাতায় কেউ উপজেলায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হননি। এছাড়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং হোম কোয়ারেন্টাইন আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি না করতে ব্যবসায়ীদের কঠোর নিদের্শনা প্রদান করেন তিনি।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখছেন ওই ইউএনও। গভীর রাতেও সরকারী বার্তা, জনসচেতনামূলক পরামর্শ প্রদান করে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম “ফেসবুক” ওয়ালে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে উপজেলার বাগমারা বাজারকে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং ভূশ্চি বাজারকে ছোট শরীফপুর কলেজের খোলা মাঠে, হরিশ্চর বাজার হরিশ্চর স্কুল ও কলেজ মাঠ, বেলঘর বাজার ও যুক্তিখোলা বাজার স্কুল মাঠে বসানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকান পাট বন্ধ, গ্রামের চা দোকানে জনসমাগম এড়িয়ে চলা নিরোধ করে প্রশংসীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ এমপি ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীর এর পরামর্শ ও নির্দেশনায় ইউএনও’র উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার প্রতি ইউনিয়নে ১০০ জন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার যাদের ঘরে এই মুহুর্তে খাবার নেই। কিন্তু সংকোচে কাউকে বলতে পারছেন না তাদেরকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।



এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি তদারককারী অফিসার এর মাধ্যমে চার ধাপে ইতোপূর্বে প্রতি ইউনিয়নে ৫০০ কেজি, ১ মে. টন, ২ মে. টন ২.৫ টন মোট ৬.০মে. টন চাল সরকারী বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে যা ৬০০ হত-দরিদ্র পরিবারকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা আ”লীগের যৌথ উদ্যোগে প্রতি ইউনিয়নে ২০০ হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে। এ হিসেবে সব মিলিয়ে প্রতি ইউনিয়নে ৮০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং করোনা পরিস্থিতি ঠিক হওয়া পর্যন্ত তা চলমান থাকবে।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম.ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে গঠিত হটলাইনে (০১৭২৭-৭৬২০৯৩)এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদনকারী মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার এমন প্রায় ৩৫০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্যাকেজ উপজেলার সরকারী কর্মকর্তাদের তত্তাবধানে যাচাই-বাচাই করে পরিচয় গোপন রেখে পৌছে দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন মানুষের খাদ্য সমস্যায় সহায়তা হিসেবে উপজেলাবাসীকে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত চার কিস্তিতে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দের বিষয়ে জনগণ ও সরকারের মধ্যে যাতে কোন ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেজন্য শুদ্ধাচারের অংশ হিসেবে জনগণের নিকট সঠিক জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা তুলে ধরছেন প্রতিনিয়ত।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইয়াসির আরাফাত বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ খুবই আতংকিত। লালমাই উপজেলাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে লালমাই উপজেলার লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব ও সকল পুলিশ সদস্য, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জয়াশিসসহ স্বাস্থ্যবিভাগ উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিগণ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব এবং গ্রাম পুলিশসহ সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ত্রাণের তালিকা প্রস্তুত, বিতরণ, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণসহ সকল কাজে আমি সকলের সহযোগিতা পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, লালমাই উপজেলাবাসীকে ভালো রাখতে, নিরাপদে রাখতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত উপজেলায় কোন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়নি। তবে উপজেলাবাসী যদি আমাদের আন্তরিক সহযোগিতা না করেন তাহলে সব চেষ্টা, কাজ বৃথা হয়ে যাবে। পাশাপাশি সকল ধরণের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সামনে পবিত্র মাহে রমজান। সেদিকেও আমাদের নজর আছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে বাড়িতে অবস্থান করে এ সংকটময় মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Tuesday, 21 April 2020

ইফতার উপহার নিয়ে দুইশ পরিবারের পাশে কোরবান আলীর পরিবার : কুমিল্লার সময়





কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন কাঁছিয়া পুকুরিয়া গ্রামের হাজী কোরবান আলীর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও ২০০ পরিবারকে গতকাল মঙ্গলবার ইফতার উপহার বিতরন করা হয়েছে। 
ইফতার উপহার হিসাবে ছিল ছোলা, মুড়ি, চিনি, তৈল,চিড়া, ডাল 
হাজী কোরবান আলীর ছোট ছেলে সিঙ্গাপুরে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন।
উনি বলেন আল্লাহ চায়তো হাজী কোরবান আলীর পরিবারবর্গ সবসময় মানুষের জন্য কাজ করে যাবে ইনশাআল্লাহ। উনি উনার মৃত পিতা ও মাতার রুহের মাগফেরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।
হাজী কোরবান আলীর নাতি বাহরাইন প্রবাসী ওমর ফারুক বলেন আমার দাদা সবসময় অসহায়দের পাশে ছিলেন।ঐ ধারাবাহিকতায় আমরা ওয়ারিশ হিসাবে মানুষের পাশে থাকতে চাই।আল্লাহ আমাদের আরো তাওফিক বাড়িয়ে দিক।