Monday, 8 June 2020

লালমাইয়ে ভয়াবহ আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই : কুমিল্লার সময়




প্রদীপ মজুমদার : কুমিল্লার লালমাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের কানাইয়া পুকুরপাড় মহরম আলী ভূইয়া বাড়ীতে শাহনাজ পারভীনের বসতঘরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

এলাকবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ৭জুন রবিবার দিবাগত রাত ১২.৩০ টায় কানাইয়া পুকুরপাড় মহরম আলী ভূইয়া বাড়ীতে শাহনাজ পারভীনের ঘরের পাশে খড়কুটোর মধ্যে থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কে বা কাহারা আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে বৈদ্যুতিক তারে আগুন ধরে সম্পূর্ণ ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওই ঘরে থাকা শাহনাজ পারভীন ও তার বৃদ্ধ মা অল্পের জন্যে প্রাণে বেঁচে যায়। শাহনাজ পারভীনের স্বামী জামাল হোসেন সৌদি প্রবাসী। শাহনাজ পারভীন বলেন পরার কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারিনি। নগদ দুই লক্ষ টাকা, দশ ভরি সোনার গহনা, ফ্রীজ, টিভি আমার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একথা বলে তিনি বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।   

খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. বিল্লাল হোসেন  জানান, খড়কুটোর আগুন থেকে বৈদ্যুতিক তারে আগুন লেগে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিভাবক জামাতা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম সৈকত বলেন আমার শ্বশুর প্রবাসী। আমার শ্বাশুড়ি ও ওনার মা এখানে থাকেন আমি তাদের দেখাশুনা করি। খড়কুটোর থেকে এভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে না। আমার মনে হয় কেউ আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। নগদ অর্থ সহ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। 
 
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আয়াতুল্লাহ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাইফুদ্দিন পাপ্পু, যুবলীগ নেতা কাজী কামরুল হাসান ভুট্টো, রফিকুল ইসলাম মোহন ও ছাত্রলীগ নেতা হান্নান মিয়াজি।  

Saturday, 6 June 2020

ছয় দফা বাংগালীর মুক্তির সনদ : কুমিল্লার সময়






প্রতি বছর আমাদের জাতীয় জীবনে ৭ জুন তথা ‘ছয় দফা দিবস’ ফিরে আসে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় আমরা দিনটি পালন করি। কিন্তু এবার ‘করোনাভাইরাস’ তথা ‘কভিড-১৯’ মহামারী আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশও আক্রান্ত। ফলত, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সতর্কতার অংশ হিসেবে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ’ তথা ‘মুজিববর্ষ’, ‘গণহত্যা দিবস’, ‘স্বাধীনতা দিবস’, ‘বাংলা নববর্ষ’, ‘মুজিবনগর দিবস’ এবং ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ পালন উপলক্ষে গৃহীত রাষ্ট্রীয় ও দলীয় অনুষ্ঠানাদি সীমিতকরণ বা স্থগিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমি আশা করি, সরকার সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশাবলি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে এবং দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছয় দফা ও ৭ জুন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। আমাদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ছয় দফা ও ৭ জুনের গুরুত্ব অপরিসীম। যে কারণে প্রতি বছর ৭ জুন আমরা ‘ছয় দফা দিবস’ পালন করি। ১৯৬৬-এর এই দিনে মনু মিয়া, মুজিবুল্লাহসহ অসংখ্য শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয় ঐতিহাসিক ছয় দফা। পরবর্তীতে ’৬৯-এর গণআন্দোলনের সূচনালগ্নে এই ছয় দফা দাড়ি-কমা-সেমিকোলনসমেত ১১ দফায় ধারিত হয়ে, ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এক দফা তথা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতা ছিলেন।

তার হৃদয়ের গভীরে সততই প্রবহমান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার বাইরে অন্য কোনো চিন্তা তার ছিল না। জেল-জুলম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে বাংলাদেশকে তিনি স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রবক্তা। আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে সর্ব ধর্মের, সর্ব বর্ণের, সর্ব শ্রেণির মানুষের জন্য তিনি আওয়ামী লীগের দরজা উন্মুক্ত করেছিলেন।
তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশ হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। কারও ধর্ম পালনে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের অভিপ্রায় থেকেই তিনি জাতির উদ্দেশে ছয় দফা কর্মসূচি প্রদান করেছিলেন।
বাংলার গণমানুষ ’৬৬-এর ৭ জুন স্বাধিকার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী হরতাল পালন করেছিল

স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এ দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে সংখ্যাগুরু বাঙালি জাতিকে গোলামির শৃঙ্খলে চিরস্থায়ীভাবে শৃঙ্খলিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। এর বিপরীতে, বাংলার প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ’৬৬-এর ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলসমূহের এক কনভেনশনে বাংলার গণমানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবি সংবলিত বাঙালির ‘মুক্তিসনদ’ খ্যাত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ দাবি উত্থাপন করে তা বিষয়সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু সভার সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ‘ছয় দফা’ দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে ঢাকা বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ও ২০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ‘ছয় দফা’ দলীয় কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। বাংলার মানুষের মুক্তিসনদ ‘ছয় দফা’ ঘোষণার পর জনমত সংগঠিত করতে বঙ্গবন্ধু তাঁর সফর সঙ্গীসহ ’৬৬-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের জনসভায় ‘ছয় দফা’কে ‘নতুন দিগন্তের নতুন মুক্তিসনদ’ হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘একদিন সমগ্র পাক-ভারতের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারের জবরদস্ত শাসন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে এই চট্টগ্রামের জালালাবাদ পাহাড়েই বীর চট্টলার বীর সন্তানরা স্বাধীনতার পতাকা উড্ডীন করেছিলেন। আমি চাই যে, পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চিত মানুষের জন্য দাবি আদায়ে সংগ্রামী পতাকাও চট্টগ্রামবাসীরা চট্টগ্রামেই প্রথম উড্ডীন করুন। ’ চট্টগ্রামের জনসভার পর দলের আসন্ন কাউন্সিল সামনে রেখে ‘ছয় দফা’র যৌক্তিকতা তুলে ধরতে তিনি একের পর এক জনসভা করেন। এরই অংশ হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর মাইজদী, ওই দিনই বেগমগঞ্জ, ১০ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, ১১ মার্চ ময়মনসিংহ সদর ও ১৪ মার্চ সিলেটে অনুষ্ঠিত জনসভায় জনতার দরবারে তার বক্তব্য পেশ করেন।


‘ছয় দফা’ প্রচার ও প্রকাশের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট ‘উপ কমিটি’ গঠন এবং তারই নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি : ছয় দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। একই বছরের মার্চের ১৮, ১৯ ও ২০ তারিখ ছিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন। এ দিন কাউন্সিল সভায় পুস্তিকাটি বিলি করা হয়। দলের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গীত হয়। বাঙালির বাঁচার দাবি ‘ছয় দফা’কে উপলক্ষ করে ’৬৬-এর মার্চে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশনটি ছিল সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সেদিনের সেই কাউন্সিল সভায় আগত ১৪৪৩ জন কাউন্সিলর বঙ্গবন্ধুকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করে। ‘ছয় দফা’র ভিত্তিতে সংশোধিত দলীয় গঠনতন্ত্রের একটি খসড়াও অনুমোদন করা হয়। ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে ‘ছয় দফা’র ভিত্তিতে দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে যে পরিবর্তন সাধিত হয় তা পরবর্তীকালে ‘ছয় দফা’র চূড়ান্ত পরিণতি এক দফা তথা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের ইঙ্গিতবাহী ছিল। ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিশেষ করে আমাদের মতো অপেক্ষাকৃত তরুণ ছাত্রলীগ নেতৃত্বের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ‘ছয় দফা’ এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরে এই পুস্তিকা সযত্নে রক্ষিত হয়েছিল। ‘ছয় দফা’ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘সাঁকো দিলাম, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়ার জন্য। ’ বস্তুত, ‘ছয় দফা’ ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র তথা অঙ্কুর। কাউন্সিল অধিবেশনের শেষ দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় দলীয় নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘চরম ত্যাগ স্বীকারের এই বাণী লয়ে আপনারা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রত্যন্ত প্রদেশের প্রতিটি মানুষকে জানিয়ে দিন, দেশের জন্য, দশের জন্য, অনাগতকালের ভাবী বংশধরদের জন্য সব কিছু জেনে-শুনেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবার সর্বস্ব পণ করে নিয়মতান্ত্রিক পথে ছয় দফার ভিত্তিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের জন্য এগিয়ে আসছে। ’

আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিল অধিবেশনটি ছিল বাঙালির ইতিহাসে বাঁক পরিবর্তন। যা ’৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন ও ’৭১-এর মহত্তর মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করেছিল। কাউন্সিল সভার সমাপনী জনসভায় বঙ্গবন্ধু মুজিব বলেছিলেন, ‘ছয় দফার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। রাজনীতিতেও কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। নেতৃবৃন্দের ঐক্যের মধ্যেও আওয়ামী লীগ আর আস্থাশীল নয়। নির্দিষ্ট আদর্শ ও সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের ঐক্যেই আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ নেতার দল নয়Ñএ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতিষ্ঠান। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই ছয় দফা আদায় করতে হবে। কোনো হুমকিই ছয় দফা আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। ছয় দফা হচ্ছে বাঙালির মুক্তি সনদ। ’ স্বভাবসুলভ কণ্ঠে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’ উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ‘এই আন্দোলনে রাজপথে যদি আমাদের একলা চলতে হয়, চলব। ভবিষ্যৎ ইতিহাস প্রমাণ করবে বাঙালির মুক্তির জন্য এটাই সঠিক পথ। ’ বঙ্গবন্ধু জানতেন, ‘ছয় দফা’ই কেবল বাঙালির স্বাধিকার তথা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত কর অখন্ড পাকিস্তানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। পক্ষান্তরে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ পাঞ্জাবিরা ‘ছয় দফা’ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগুরু বাঙালির রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহণ ঠেকাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে- যা পরিণামে স্বাধীন বাংলাদেশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। সফলভাবে সমাপ্ত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের পর বঙ্গবন্ধু সারা দেশ চষে বেড়ান।

২৬ মার্চ সন্দ্বীপ এবং ২৭ মার্চ সাতকানিয়ার বিশাল জনসভায় ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ ব্যাখ্যা করে বক্তৃতা করেন। এরপর উত্তরাঞ্চল সফরে যান ’৬৬-এর ৭ এপ্রিল। ওই দিন পাবনা ও নগরবাড়ীর জনসমাবেশে বক্তৃৃতা করেন। একই মাসের ৮ তারিখ বগুড়া, ৯ তারিখ রংপুর, ১০ তারিখ দিনাজপুর, ১১ তারিখ রাজশাহী, ১৪ তারিখ ফরিদপুর, ১৫ তারিখ কুষ্টিয়া, ১৬ তারিখ যশোর এবং ১৭ তারিখ খুলনায় বিশাল সব জনসভায় ছয় দফার বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ বক্তৃতা করেন। এভাবে সারা দেশে ৩৫ দিনে মোট ৩২টি জনসভায় তিনি বক্তৃতা করেন। বিপুলসংখ্যক জনতার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত লাগাতার জনসভায় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতায় ‘ছয় দফা’র সপক্ষে জনমত প্রবল হয়ে ওঠে। ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ওপর নেমে আসে স্বৈরশাসক আইয়ুবের নির্মম গ্রেফতার-নির্যাতন। প্রত্যেক জেলায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রদত্ত বক্তৃতার প্রতিপাদ্য বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুকে প্রত্যেক জেলা থেকে জারিকৃত ওয়ারেন্ট বলে লাগাতার গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এপ্রিলের ১৭ তারিখ রাত ৪টায় খুলনায় এক জনসভায় ভাষণদান শেষে ঢাকা ফেরার পথে রমনা থানার জারিকৃত ওয়ারেন্ট অনুযায়ী পাকিস্তান দেশরক্ষা আইনের ৪৭(৫) ধারা বলে পুলিশ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। যশোর মহকুমা হাকিমের এজলাস থেকে তিনি জামিন পান। সে দিনই রাত ৯টায় সিলেটে গ্রেফতার, পুনরায় জামিনের আবেদন এবং ২৩ তারিখ জামিন লাভ। ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহে গ্রেফতার, ২৫ এপ্রিল জামিন। ‘ছয় দফা’ প্রচারকালে তিন মাসে বঙ্গবন্ধুকে সর্বমোট আটবার গ্রেফতার করা হয়। এভাবেই আইয়ুবের দমননীতি অব্যাহত থাকে। একই বছরের ৮ মে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ঐতিহাসিক ‘মে দিবস’ স্মরণে শ্রমিক জনতার এক বিরাট সমাবেশে শ্রমিকরা বঙ্গবন্ধুকে বিপুল সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে এবং পাটের মালায় ভূষিত করে। ভাষণদান শেষে রাত ১টায় তিনি যখন বাসায় ফেরেন তখন পাকিস্তান দেশরক্ষা আইনের ৩২(১) ‘ক’ ধারা বলে তাকেসহ তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। ‘ছয় দফা’ দেওয়াকে অপরাধ গণ্য করে স্বৈরশাসক আইয়ুব বঙ্গবন্ধুকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে দেশরক্ষা আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের ওপর অব্যাহত গ্রেফতার-নির্যাতন চালায়। সামরিক সরকারের এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আহ্বানে ১৩ মে সমগ্র প্রদেশে ‘প্রতিবাদ দিবস’ পালিত হয়। প্রতিবাদ দিবসের জনসভায় ‘ছয় দফা’র প্রতি গণমানুষের বিপুল সমর্থন প্রকাশ পায়। হাজার হাজার শ্রমিক এই দিন স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালন করে এবং পল্টনে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে সরকারের দমন নীতির তীব্র প্রতিবাদ করে। দলের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদকে গ্রেফতার করা হলে সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান চৌধূরী অস্থায়ী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ২০ মে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ‘সাতই জুন’ সর্বব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। সাতই জুনের হরতালে সমগ্র পূর্ব বাংলা যেন অগ্নিগর্ভ। বিক্ষুব্ধ মানুষ স্বাধিকার ও বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়।

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রলীগের সার্বক্ষণিক কর্মী, ইকবাল হল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপি। সর্বজনাব শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, আমীর হোসেন আমু, সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী, আবদুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, নূরে আলম সিদ্দিকীসহ আরও অনেকে- আমরা সে দিন হরতাল কর্মসূচি পালনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করি। সেদিনের হরতাল কর্মসূচিতে ধর্মঘটী ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে তেজগাঁওয়ে শ্রমিক মনু মিয়া, মুজিবুল্লাহসহ ১১ জন শহীদ হন এবং প্রায় ৮০০ লোককে গ্রেফতার করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে হরতাল সফল করার দায়িত্বে ছিলেন ছাত্রনেতা খালেদ মোহাম্মদ আলী ও নূরে আলম সিদ্দিকী। তারা সেখানে বক্তৃতা করেন। প্রকৃতপক্ষে ৭ জুন ছিল স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথের আরম্ভস্থল তথা যাত্রাবিন্দু। আর আমরা যারা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম, আমাদের স্বাধীনতার চেতনার ভিত্তিও স্থাপিত হয়েছিল এই দিনটিতেই।

১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারির মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬২-এর ১৭ সেপ্টেম্বরের ‘শিক্ষা আন্দোলন’; ‘৬৬-এর ৭ জুন ‘ছয় দফা আন্দোলন’; ’৬৯-এর ১৭ থেকে ২৪ জানুয়ারির ‘গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান’; ৯ ফেব্রুয়ারি ১১-দফা বাস্তবায়ন ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে ‘শপথ দিবস’ পালন; স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পদত্যাগ; আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি লাগাতার সংগ্রাম শেষে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান; অতঃপর ২২ ফেব্রুয়ারি সব রাজবন্দীর মুক্তির পর বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ‘মুক্ত মানব শেখ মুজিব’কে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান। পঞ্চাশের দশক থেকে বাঙালির জাতীয় মুক্তি-সংগ্রামের লক্ষ্যে গড়ে তোলা সব আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগ।

এসব মহিমান্বিত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ অর্জন করেছিল গণতান্ত্রিক তথা নিয়মতান্ত্রিক আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জয় করে নিয়েছিল বাংলার মানুষের হৃদয় আর সৃষ্টি করেছিল ইতিহাস। অতীতে আমাদের সময়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রতি বছর ২১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তা না হলে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কাছে নেতৃত্ব তুলে দিতে হতো। এটাই ছিল বিধান এবং গঠনতান্ত্রিক বিধি-বিধানের অন্যথা হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। বিধান মোতাবেক ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আমি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং আ স ম আবদুর রব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে এক বছর পরে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১ মার্চের মধ্যে সম্মেলন করে নূরে আলম সিদ্দিকী এবং শাজাহান সিরাজের কাছে নেতৃত্বের দায়িত্বভার অর্পণ করে আমাদের কমিটি বিদায় নেই এবং ২২ মার্চ হল ত্যাগ করে গ্রিন রোডে ‘চন্দ্রশীলা’ নামে একটি বাসা ভাড়া করে আমি এবং রাজ্জাক ভাই বসবাস শুরু করি। আজ অতীতের সেই সোনালি দিনগুলোর দিকে যখন ফিরে তাকাই স্মৃতির পাতায় দেখি, সে দিনের ছাত্রলীগ ছিল বাংলার গণমানুষের অধিকার আদায় তথা ‘মুজিব আদর্শ’ প্রতিষ্ঠার ভ্যানগার্ড। মূলত বঙ্গবন্ধু মুজিবের নির্দেশে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতৃত্বই সে দিন সারা দেশে ৭ জুনের কর্মসূচি সফলভাবে পালন করে স্বাধিকারের পথে এক অনন্য নজির স্থাপন করে। আর বাংলার মেহনতী মানুষ আত্মত্যাগের অপার মহিমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীসহ সমগ্র বিশ্বকে জানিয়ে দেয় যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রদত্ত ‘ছয় দফা’ই হচ্ছে বাঙালির জাতীয় মুক্তির একমাত্র পথ।

‘ছয় দফা’কে প্রতিহত করার জন্য পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বহু ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু ‘ছয় দফা’র প্রতি বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় স্থির-প্রতীজ্ঞাবোধ তাকে জনমনে জনগণমন অধিনায়কের আসনে অধিষ্ঠিত করে। ’৬৬-এর ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিক্ষেপ করে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়েও ‘ছয় দফা’ আন্দোলনকে যখন রোধ করা যাচ্ছিল না, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে চিরতরে তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ মামলা দেন। ‘ছয় দফা’ দাবি আদায়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করতে বাংলার সর্বস্তরের মানুষসহ আমরা যারা ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তারা ’৬৯-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছয় দফাকে এগারো দফায় অন্তর্ভুক্ত করে সারা বাংলার গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে, কলে-কারখানায় ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। ফলশ্রুতিতে এগারো দফা আন্দোলনের স্বপক্ষে সারা দেশে যে গণজোয়ার তৈরি হয় তাতে দেশে বৈপ্লবিক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। এমতাবস্থায় শাসক শ্রেণি গণআন্দোলনকে নস্যাৎ করতে আমাদের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে চিত্রিত করে। তাদের এই অপপ্রয়াসের সমুচিত জবাব দিতে ’৬৯-এর ৯ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের শপথ দিবসের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু মুজিবের নির্দেশে বলেছিলাম, ‘পূর্ব বাংলার মানুষ কোনো দিন বিচ্ছিন্নতাকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং বিচ্ছিন্নতায় বিশ্বাসীও নয়। কারণ তারা সংখ্যায় শতকরা ৫৬ জন। যদি কারও পূর্ব বাংলার সঙ্গে থাকতে আপত্তি থাকে তবে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। ’ নেতার এই নির্দেশ আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মেনে চলেছি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা চালানোর আগ পর্যন্ত কোনো রকম উগ্রতাকে অতি বিপ্লবীপনাকে আমরা প্রশ্রয় দিইনি। নিয়মতন্ত্রের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগে আমাদের কখনই অভিযুক্ত করা যায়নি। আমরা আমাদের মুক্তি-সংগ্রামের ন্যায্যতা প্রমাণ করে মুক্তিসংগ্রামী হিসেবেই এগিয়ে গেছি। আর এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ৭ জুনের কর্মসূচি পালনকালে শহীদদের বীরত্বপূর্ণ আত্মদান।

ছয় দফার পক্ষে ৭ জুনের হরতাল এতটাই সর্বব্যাপী ছিল যে, স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে এ সম্পর্কে প্রতিবেদন মুদ্রণ ও প্রকাশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছিল। ৭ জুনের সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি ও ‘ছয় দফা’র পক্ষে জনমত তৈরিতে দৈনিক ইত্তেফাকের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৬৬-এর ১৬ জুন পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধির ৩২(১) ধারায় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে গ্রেফতার এবং দ্য নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করে। পরে, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলে দৈনিক ইত্তেফাক এবং বাজেয়াপ্তকৃত নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেসটি ফেরত প্রদানে স্বৈরশাসক বাধ্য হয়েছিল। ‘ছয় দফা’ দাবি আদায় ও পাকিস্তানের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য ৭ জুনে যে সার্বভৌম পার্লামেন্টের দাবিতে আমরা ছয় দফার পক্ষে সংগ্রাম করেছিলাম সেই কর্মসূচির ফলশ্রুতিই হচ্ছে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। ৭ জুন ছিল এর সূচনা বিন্দু। আজ ভাবতে কত ভালো লাগে, আমাদের জাতীয় জীবনে শত শহীদের রক্তে লেখা এ দিনটি চেতনায় জাতীয় মুক্তির যে অগ্নিশিখার জন্ম দিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ’৭০-এ জুনের ২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এবং তারই নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করি। আমি হই আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ কর্মী। আওয়ামী লীগে যোগদানের পর বঙ্গবন্ধু আমাকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে মনোনয়ন দেন এবং মাত্র ২৭ বছর এক মাস ১৫ দিন বয়সে আমি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হই। এরপর ’৭১-এ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে মুজিব বাহিনীর চার প্রধানের অন্যতম হয়ে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি। স্বাধীনতার পর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হয়ে ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আমাকে তার রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন।

আজ ৭ জুনে অতীতের অনেক স্মৃতি আমার মানসপটে ভেসে ওঠে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। বঙ্গবন্ধুর স্নেহে আমার জীবন ধন্য। ৭ জুনের চেতনাবহ এ দিনটি আমার জীবনে অম্লান হয়ে আছে। ৭ জুনে যে সব শহীদ ভাই তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে, বাংলার মানুষের মুক্তির পথকে প্রশস্ত করে গিয়েছেন, আজ তাদের পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তাদের অমর প্রাণের বিনিময়ে সংগ্রাম পরম্পরায় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ কায়েম হয়েছে। শহীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে জাতির পিতার সংগ্রামী চেতনার ভিত্তিতে, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ আমরা উন্নয়নের নবদিগন্তের সূচনা করেছি। প্রকৃতপক্ষে ঐতিহাসিক ৭ জুন ছিল আমাদের স্বাধিকার ও স্বাধীনতার চেতনার প্রারম্ভ বিন্দু। এ দিনটিতে ৭ জুনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কর্তব্য বলে মনে করি।


লেখক : আওয়ামী লীগ নেতা; সংসদ সদস্য; সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ই-মেইল : tofailahmed69@gmail.com

Thursday, 4 June 2020

ধরাছোঁয়ার বাইরে কৃষক আমানউল্লাহর মূল হত্যাকারীরা : কুমিল্লার সময়




  
 লালমাই (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
কৃষক আমানউল্লাহ(৬৫) । মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্য দিবালোকে আছড়ে হত্যা করা হয়েছে তাকে। পরিবার ও এলাকার মানুষের সামনে দিনের আলোয় দুমড়ে আছড়ে গুরুতর আহত করার দৃশ্য দেখেছে মানুষ । মধ্যযুগীয় বর্বর ও অবিশ্বাস্য এমন হামলা সমাজের মানুষের হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল এমন ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী স্হানীয় ইউপি মেম্বার দেলোয়ার হোসেন দেলু গংরা। ইতোমধ্যেই,তোফাজ্জল, রবিউল, বিল্লাল, নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও গ্রেফতার করা যায়নি মূল হোতাদের। স্থানীয়রা বলছেন, মূল অপরাধীদের পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক আশ্রয় থাকায় মূল অপরাধীরা পূর্বে বিভিন্ন অপরাধ করেও পার পেয়ে গেছেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তারা সর্বশক্তি দিয়েই আমানউল্লাহ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসেও মূল আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলু মেম্বার,  সোহাগ , তোফায়েল, মাহাবুল হককে গ্রেফতার করতে পারেনি। 

জানা যায় গত ১৭ এপ্রিল মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শূন্যে তুলে আছাড় মেরে কৃষক বাবাকে হত্যা করেছেন এক ইউপি সদস্য। গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ১৮ এপ্রিল ওই কৃষক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের কৃষক আমান উল্লাহর এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে কিছুদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি মেম্বার দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের ছোট ভাই কাঠমিস্ত্রী সোহরাব।

গত ১৬ এপ্রিল রাত ১১টায় দিকে সোহরাব আমান উল্যাহর বাড়িতে গিয়ে তার মেয়েকে ডাকাডাকি শুরু করে। এসময় আমান উল্যাহ ও তার ছেলেরা চোর চোর বলে চিৎকার দেয়। তাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের বাড়ির লোকজন বেরিয়ে আসে।

খুঁজতে গিয়ে সবাই দেখে সোহরাব বাড়ির পাশের ধান খেতে শুয়ে আছে। এসময় তাকে ধরে উত্তম মধ্যম দেয়।
এখবর পেয়ে সোহরাবের ভাই দেলোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে ১০/১২জন রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমান উল্যাহর বাড়িতে হামলা করে।  

পরদিন ১৭ এপ্রিল দুপুরে গ্রামের গণ্যমান্যদের আমান উল্যাহ বিষয়টি জানায়। গ্রামবাসীকে জানানোর কারণে দুপুরে দেলোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে তার ভাইসহ কয়েকজন আমান উল্যাহকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।

ঘর থেকে বের করার সময় দেলোয়ার মেম্বার আমান উল্যাহকে শূন্যে তুলে মাটিতে আছাড় দেয়। এরপর সবাই মিলে তাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে ইছাপুরা গ্রামের শহীদের বাড়ির সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে দেয়।  
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। এঘটনায় আমান উল্যাহর ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ওই দিন বিকালে দেলোয়ার মেম্বারসহ এজাহারভুক্ত ৪জন ও অজ্ঞাতনামা ৭/৮জনের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় মামলা দায়ের করেন।  

গত ১৮ এপ্রিল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় লালমাই থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইছাপুরা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে তোফাজ্জল ও আজগর আলীর ছেলে রবিউলকে আটক করে।  

নিহতের ছেলে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুল জলিল সাংবাদিকদের বলেন, খুনিরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছে না। আমার বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় দেলোয়ার মেম্বারের নেতৃত্বে আমার বাবাকে খুন করা হয়েছে। আমরা খুব শীঘ্রই খুনি দেলুসহ তার ভাইদের গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই। 
 
লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত ১৮ এপ্রিল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা শাহবাগ থানার মাধ্যমে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করি। দায়েরকৃত মামলায় ৩০২ ধারা সংযুক্তের জন্য আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করি। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছি। ইউপি মেম্বার দেলোয়ারসহ বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

আসামীদের গ্রেফতারে লালমাই সহ পাশ্ববর্তী সকল জেলা ও উপজেলায় নজরদাড়ির ব্যবস্থা জোরদাড় করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদাপোশাকধারী পুলিশের নজরদাড়িও বাড়ানো হয়েছে।

Tuesday, 2 June 2020

ফ্রেন্ড সোসাইটি লালমাই এর ঈদ পূর্ন মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত : কুমিল্লার সময়



 

প্রদীপ মজুমদার : বন্ধুত্বের শক্তি একাকিত্বের মুক্তি, সামাজিক অবক্ষয় বন্ধুত্ব করবে জয় এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পথ চলা শুরু সামাজিক সংগঠন লালমাই ফ্রেন্ড সোসাইটির। দেশ বিদেশে বহু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সংগঠন সৃষ্টি যার নেশা, মানব সেবায় নিবেদিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
সদালাপী বিচক্ষণ দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সজ্জন অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপুর হাত ধরে সংগঠনটি ইতিমধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের দুঃখ দূর্দশা লাগবে কাজ করে যাচ্ছে। 
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্য সহায়তা, ঈদ উপহার নিয়ে পাশে দাড়িয়েছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশে। 
ধান কেটে পৌঁছে দিয়েছেন কৃষকের বাড়ী। 

সৃষ্টিলগ্ন থেকে এক ঝাঁক তরুণ উদীয়মান যুবক  সংগঠনের সকল সদস্যর সমন্বয়ে আত্ন মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীদিনে সকলে একসাথে কাজ করবেন এমনটাই আশা পোষণ করছেন ফ্রেন্ড সোসাইটির বন্ধুরা। 

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের মনোহরপুরে আজ ০২ জুন বিকেলে ফ্রেন্ড সোসাইটি লালমাই এর উদ্যোগে ঈদ পূর্ন মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
ফ্রেন্ড সোসাইটির আহবায়ক কাউসার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট সংগঠক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপু। 
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এম এ মোতালেব, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সামছুল হক মুন্সী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, সাবেক বৃহত্তর পেরুল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও পেরুল উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল বাশার, ইঞ্জি. মহিনুল ইসলাম, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী হাবিব, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ. সোলায়মান, আমির হোসেন প্রমুখ।
এসময় ফ্রেন্ড সোসাইটির উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন হতে আগত সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

লালমাইয়ে করোনায় আক্রান্ত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার : কুমিল্লার সময়



লালমাই প্রতিনিধি : কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারায় তোফায়েল আহমেদ নামের একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বরুড়া উপজেলার গালিমপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত । গত ২৮ মে বরুড়া সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করেন। ২ জুন মঙ্গলবার দুপুরে তার করোনা পজেটিভ আসে। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি করোনা পজিটিভ কোন রোগী থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তার গ্রামের বাড়ী লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর হলেও তিনি বাগমারা দক্ষিণ বাজারস্থ একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ঈদুল ফিতরের আগে থেকে তিনি বাসার বাহিরে যাতায়াত বন্ধ করে বাসায় আলাদা কক্ষে থাকতে শুরু করেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন।

বরুড়া থানার ওসির বেতার বার্তা পেয়ে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব মঙ্গলবার বিকালে করোনা পজিটিভ তোফায়েলের বাগমারাস্থ বাসা লকডাউন করিয়েছেন।

লালমাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: জয়াশীষ রায় বলেন, করোনা পজেটিভ তোফায়েল আহমেদ বরুড়ায় কর্মরত হওয়ায় লালমাইয়ের পরিসংখ্যানে তার তথ্য যোগ হবে না। তবে বুধবার সকালে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নমুনা লালমাইয়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সংগ্রহ করবে।

উল্লেখ্য ২ জুন পর্যন্ত লালমাইয়ে ২৪৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৯৪ টি রিপোর্ট পেয়েছি। এদের মধ্যে ৫ জন পজেটিভ। সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। পজেটিভ হয়ে মৃত্যু ১জন, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ২জন।

Monday, 1 June 2020

লাকসামে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে সওজের জায়গায় মার্কেট নির্মান : কুমিল্লার সময়





লাকসাম প্রতিনিধি : কুমিল্লার লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ সড়কের খুন্তা নামক স্থানে প্রশাসনের বাধাঁ উপেক্ষা করে সড়ক ও জনপদের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে র্মাকেট নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আজ (১ জুন) সোমবার সড়ক ও জনপদের লাকসামের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিম উদ্দিন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

জানা যায়, লাকসাম-মুদাফরগঞ্জ সড়কের খুন্তা নামক স্থানে ওই এলাকার ছেরাজুল হকের ছেলে ফারুক হোসেন সড়ক ও জনপদের জায়গা দখল করে র্মাকেট নির্মান করে।

 
সরকারী জায়গা অবৈধভাবে দখল করে র্মাকেট নির্মানের বিষয়টি জানার পর প্রথমে পশ্চিমগাঁও তহসিল অফিসের নায়েব কে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে। পরদিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) স্ব-শরিরে উপস্থিত হয়ে পুনরায় কাজ বন্ধ করেন।

সড়ক ও জনপদের জায়গা দখল করে র্মাকেট নির্মান বিষয়টি লাকসামের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিম উদ্দিন জানার পর সুপারভাইজার মাসুম কে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করার আদেশ প্রদান করেন।

অবৈধভাবে দখলদার ফারুক হোসেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও সওজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিম উদ্দিনের আদেশ কে অমান্য করে রাতের আধাঁরে ওই র্মাকেট নির্মানের কাজ সমাপ্ত করে।

অভিযুক্ত ফারুক জানায়, পুর্বের দখলদার থেকে সে কয়েক লাখ টাকায় এ জায়গা ক্রয় করেন। ধারদেনা করে র্মাকেট নির্মানের কাজে হাত দিয়েছেন। সরকারী জায়গায় আরো বহু লোক দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন।

সড়ক ও জনপদের লাকসামের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিম উদ্দিন বলেন, সুপারভাইজার কে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করার আদেশ প্রদানের পরও সে কাজ করায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) উজালা রানী চাকমা বলেন,সরকারী জায়গা অবৈধভাবে দখল করে র্মাকেট নির্মানের বিষয়টি জানার পর প্রথমে নায়েব কে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। পুনরায় স্ব-শরিরে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করেছি। সে আবারও ওই র্মাকেট নির্মান করে সরকারী আদেশ অমান্য করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমাইয়ে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাশ নন এমপিও জামিরা মহিলা মাদ্রাসা : কুমিল্লার সময়




লালমাই প্রতিনিধি :
কুমিল্লায় লালমাই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের জামিরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসাটি নন এমপিও হয়েও ২০২০ সনের দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করেছে। উপজেলার জামিরা গ্রামে একটি নিরিবীলি পরিবেশে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার দীপ্ত শপথ নিয়ে ১৯৯৮ ইং সালে জামিরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ ইং সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পাঠদানের অনুমতি লাভ করে ২০০৭ ইং সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি পায়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে অদ্যাবধি সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী ও পরিচালকবৃন্দ দ্বারা সুচারুরূপে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে । ২০১৮ইং সালে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় চরম হতাশায় শিক্ষকমন্ডলী ও এলাকাবাসী। প্রতি বছর পঞ্চম শ্রেণি, অষ্টম শ্রেণি ও দশম শ্রেণীর কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলোতে মেধাবৃত্তি সহ শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে আসছে এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। গতকাল ৩১ মে ২০২০ তারিখের ঘোষিত দাখিল পরীক্ষায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই পাস করেছে। এদের মধ্যে দুইজন A+, ১২ জন A, ২ জন A(-) এবং ১ জন B গ্রেড পেয়েছে । বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া যথাযথ  কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করার।
নারী শিক্ষায় অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য সকলের নিকট অনুরোধ করেন এলাকার জনগণ।