Monday, 18 May 2020

সরকারি নির্দেশ অমান্য, সাত জনকে জরিমানা: কুমিল্লার সময়




লালমাই প্রতিনিধি :
সরকারি নির্দেশ অমান্য, সাতজনকে জরিমানা কুমিল্লার লালমাইয়ে সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার ব্যবসায়ীসহ স্বাস্থ্য বিধি না মানায় দুই ব্যক্তি ও রাস্তায় লোড আনলোড করায় ট্রাক চালক সহ সাতজনকে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৮ মে ) সকালে উপজেলার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত । ওই সময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় বাগমারা মধ্য বাজারে কাপড় ব্যবসায়ী আজমির ক্লথ স্টোরকে ২০ হাজার টাকা ও আল আরফিন টেইলার্সকে ৫ হাজার টাকা, নিউ ফ্যাশন টেইলার্সকে ১০ হাজার টাকা, অঙ্গসাজ টেইলার্সকে ৫ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ছাদেক ও কামরুলকে ২ হাজার টাকা, রাস্তার উপর আপলোড  করায় ট্রাক চালক হুমায়ুনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করে তাদের কাছ থেকে নগদ আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।


উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সরকারি নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। তারই অংশ হিসেবে উপজেলার বাগমারা বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো জানান, উপজেলাব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
প্রসিকিউশনে সহায়তা করেন লালমাই থানার ওসি জনাব মোহাম্মদ অাইয়ুব ও লালমাই থানা পুলিশ। 

সরকারী বিভিন্ন কার্ডের নামে টাকা আদায়, প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতার বাবাকে মারধর : কুমিল্লার সময়





নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি :
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের পুজকরায় অসহায় ও দিনমজুর পরিবারকে খাদ্য সহায়তার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। তিনি নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে নারী মেম্বার হাজেরা আক্তার বুলু। কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় রবিবার (১৭ মে) স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার বাবাকে মসজিদ থেকে ডেকে এনে মারধর করেছেন ওই ইউপি সদস্যের স্বামী ও ছেলে। বর্তমানে তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

আহত ব্যক্তি পুজকরা ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবা আবদুল খোকন। জসিম উদ্দিন ও স্থানীয়রা জানান, মে মাসের প্রথম দিকে পুজকরা গ্রামের অসহায় ও দিনমজুর প্রায় ৩০টির বেশি পরিবারের নামে সহায়তার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন ইউপি সদস্য বুলু। এজন্য প্রতি পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। তারপরও কার্ড ও সহায়তা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ করে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জসিম উদ্দিন প্রতিবার করেন। পরে তাকে না পেয়ে তার বাবাকে মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে ইউপি মহিলা বুলুর স্বামী আনিছুল হক ও ছেলে সাইফুল।
ভুক্তভোগী দিনমজুর সেকান্দর আলী বলেন, ‘বুলু মেম্বার আমাদেরকে সহায়তার কার্ড করে দেবে বলে একহাজার টাকা করে নিয়েছে। আজ পর্যন্ত কার্ড পাইনি, টাকাও পাইনি। প্রতিবাদ করতে গেলে তার ছেলে সাইফুল মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। তার মা মেম্বার বলে সেই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে। সব সময় মানুষ তার জন্য আতঙ্কে থাকে।’
একই কথা বলেছেন ওই গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক ফখরুল ও দিনমজুর মহিন। তাদের অভিযোগ, করোনার কারণে আমাদের কাজকর্ম নেই। খাদ্য সহায়তা ও কার্ডের কথা বলায় আমরা টাকা দিয়েছে। এখন সহায়তা নেই, কার্ডও নেই।
বুলু মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনও ব্যক্তিকে ত্রাণ সহায়তা ও কার্ডের কথা বলেনি এবং টাকাও নেইনি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমার ছেলেও ছাত্রলীগ করে। তাকে সকালে মারধর করায় সেইও বিকালে প্রতিবাদ করতে যায়।’
আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াব বলেন, ‘খাদ্য সহায়তার কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

Sunday, 17 May 2020

লালমাইতে ফের মার্কেট বন্ধ : কুমিল্লার সময়




প্রদীপ মজুমদার : স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মার্কেটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঢল নামায় লালমাই উপজেলার সকল মার্কেটগুলো ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান সকাল ৬টা হতে বিকাল ৪টা ও ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে ঔষধ দোকান। গতকাল ১৭মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

কষ্টসহিষ্ণু পরীক্ষীত কর্মী বান্ধব নেতা 'কে এম সিংহ রতন'' : কুমিল্লার সময়





ইউনির্ভাসেল কামাল  : 
কল্যান মিত্র সিংহ রতন। রতন নামেই সুপরিচিত। জনতার রতন দা।  সদাহাস্যজ্বল নিবেদিত রতন। বেশ কর্মঠ ছিলেন। আর এটাই মরহুম অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের দৃষ্টি আকর্ষন করে। তখন কল্যান মিত্র সিংহ রতন কুমিল্লায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। 
বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের তথা বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগুরু ছিলেন বড়ইগাঁয়ের অধিবাসি শ্রীমত জ্যোতি পাল মহাথেরো। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেন। এজন্য তিনি স্বাধীনতা উত্তর আন্তর্জাতিক শান্তি পদকে ভূষিত হন। ৭৫ পরবর্তীতে রাজনীতিতে বৌদ্ধ অধ্যুসিত ঐ এলাকায় জ্যোতিপাল মহাথেরোর প্রভাবকে কালাম ভাই সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। আর সে সুবাদে মিঃ রতন কালাম ভাইয়ের  সাথে বেশ ঘনিষ্ট সান্নিধ্য লাভ করে।
বিএনপি এবং স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কর্মসুচি বাস্তবায়নে কালাম ভাই নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে রতন দা কে যে দায়িত্ব দিতেন, রাতবিরাত রতন দা সেই দায়িত্ব  সফলভাবে পালন করতো। ঐসব এলাকার নেতাকর্মিরা সবই রতন দার পরিচিত,প্রতিটি এলাকা তিনি চিনতেন,
বিশেষ করে হরতাল কর্মসূচির মতো কঠোর ও ঝুকিপূর্ন দায়িত্ব পালনে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে কালাম ভাই ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যখন সারারাত ট্রেনে আলিশ্বর, ময়নামতি, লালমাই, লাকসাম ষ্টেশনে  কাটিয়ে সকালে এসে কর্মসুচি বা পিকেটিং করতেন সেসব ক্ষেত্রে রতন দার ভূমিকা ছিলো স্মরণে রাখার মতো।
অনেক সুযোগ থাকা স্বত্বেও  রতন দা ছিলো খুবই সৎ।কালাম ভাই যখন রতন দা আর মরহুম তাহের মজুমদার কে রেডক্রসের বিভিন্ন কাজসহ উপজেলার কাজ পাইয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করেছেন তখন দেখেছি টেন্ডারের জানামত দেয়ার মতো টাকা তাদের কাছে থাকতোনা।
রতন দা ছিলো খুবই বিশ্বাসি। যারজন্য কালাম ভাই যখন ইন্ডাষ্টি তৈরী করেন, তখন মেশিনারিজ বুঝে নেয়ার জন্য রতন দা কে ভারতে পাঠিয়েছিলো।
চট্রগ্রামের নেতা আখতারু জামান বাবু ভাই যখন আত্নগোপনে থেকে আমাদের বুড়িচং সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান তখন রাতের বেলায় বিশ্বাসী সঙ্গী হিসাবে রতন দা কে তখন সাথে রেখেছিলেন কালাম মজুমদার সাথে ছিলেন রেজাউল করিম শামিম।
রতন দা ,খুবই অনুগত পরায়ন একজন মানুষ ।কালাম ভাই বলেছে,সেজন্য নানা প্রতিকুলতা সত্বেও রতন দা তৎকালীন টিএনও সিআর বড়ুয়ার শ্যলিকাকে বিয়ে করতে রাজি হন।
রতন,খুবই ধৈয্যশীল,কষ্টসহিষ্ণু এবং পরোপকারি মানুষ। তাকে কেউ খারাপ কথা বললেও সে উত্তেজিত হয়না,খাওয়া-দাওয়া ছাড়াই নিরলশ ভাবে কাজ করে যেতে পারেন। রাজনীতিতে এটা খুবই বড় গুন,আজকালতো দেখাই যায়না।
তিনি আমৃত্যু মরহুম অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার এর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন।
অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের মৃত্যুর পর আজকের অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এফ সিএ (লোটাস কামাল) এমপির সাথে কাজ শুরু করেন।
অত্যন্ত দক্ষতার গত ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে আজকের অর্থ মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কাজ শুরু, ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে আ হ ম মুস্তফা কামাল এফ সিএ এমপি যখন অর্থ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি তখন আরো ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করার সুযোগ হয়। 
পরে পরিকল্পনা মন্ত্রী ও বর্তমানে আজকের অর্থ মন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব হিসেবে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন পরীক্ষিত কর্মী বান্ধব নেতা কল্যান মিত্র সিংহ রতন। 

বাবু কল্যান মিত্র সিংহ রতন এর জন্য আমাদের নিরন্তর শুভ কামনা।।

কৃতজ্ঞতাঃ Rezaul Karim Shameem

Saturday, 16 May 2020

ঢাকাস্থ লালমাই উপজেলা সমিতির খাদ্য সামগ্রী বিতরণ : কুমিল্লার সময়





প্রদীপ মজুমদার : কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় আজ শনিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গরীব, দুস্থ, দিনমজুর, শ্রমিকসহ ৪০০ জন বিভিন্ন অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ঢাকাস্থ লালমাই উপজেলা সমিতি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, ঢাকাস্থ লালমাই উপজেলা সমিতির সভাপতি হারুনর রশীদ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সার্বিক তত্বাবধানে করোনার মহাদূর্যোগে লালমাই উপজেলার সকল অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্তে সমিতির সকল নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সহমত পোষন করলে তহবিল গঠন করে তার কার্যক্রম শুরু করে।


এমন মানবিক কাজের উদ্যোগের জন্য লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের দুস্থরা উপকৃত হবেন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চিনি গুড়া চাল,সেমাই,চিনি পেঁয়াজ, তেল ও সাবান।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ছাত্রলীগের আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়কদের হাতে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তুলে দেন ঢাকাস্থ লালমাই সমিতির খাদ্য সামগ্রী বিতরণের সমন্বয়ক ও লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আয়াতুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ লালমাই সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ও হুমায়ুন কবির মজুমদার,দপ্তর সম্পাদক আলী আক্কাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহেদী হাসান বাপ্পী, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান ভুট্টো, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আক্তার পারভেজ, ছাত্রলীগ নেতা হান্নান মিয়াজি, উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
ঢাকাস্থ লালমাই সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মোবাইলে জানান মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের সমিতির সকল সদস্যরা লালমাই উপজেলার মানুষের যেকোন সমস্যায় পাশে থাকবো।সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। সবাইকে অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা।

Friday, 15 May 2020

সীমানার নারিকেল গাছ ও নিষ্পাপ পারুল : কুমিল্লার সময়



মোহাম্মদ আইয়ুব, অফিসার ইনচার্জ, লালমাই থানা : 
চাঁদপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে গাছ পালা ও নদী বেষ্টিত বাঘাদী গ্রামে পারুলদের বাড়ী। পারুল ৭ বছর বয়সের নিষ্পাপ এক অবুঝ শিশু। পারুলদের সম্পত্তির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পারুলদের বাড়ির সীমানায় একটি পুরনো নারিকেল গাছ আছে। প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী ১১ জন মিলে একদিন ঐ নারিকেল গাছ থেকে নারিকেল পাড়ছিল। পারুল তাদের নারিকেল পাড়তে বাধা দেয়; এই বাধা দেয়ার কারনে প্রতিপক্ষরা পারুলকে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পারুলের পিতা লালু মিয়া (ছদ্মনাম) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরন মামলা করেন।
থানার অফিসার ইন-চার্জ মামালাটির তদন্তভার আমার উপর অর্পর করেন। আমি তদন্তের দায়িত্ব অত্যান্ত গুরুত্বের সহিত গ্রহন করি; কারন পাচারের জন্য শিশু অপহরনের ঘটনাটি স্পর্শকাতর বিধায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি থাকবে। আমি মামলার ঘটনাস্থলে গিয়ে এজাহারে বর্নিত সীমানার নারিকেল গাছটি অত্যন্ত সূক্ষ ভাবে পর্যবেক্ষন করি। পারুলদের সীমানায় আর কোন নারিকেল গাছ আছে কি-না তাও সতর্কতার সহিত অবলোকন করি। সীমানার নারিকেল গাছটির আগা চিকন মৃত প্রায়; পারুলের পিতা এই নারিকেল গাছটি-কে নিয়ে মামলার সূত্রপাত বলে ঘটনাস্থলে আমাকে বর্ননা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী কোন সাক্ষী পারুলের পিতা হাজির করতে পারেন নাই, আমিও ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাই নাই। নারিকেল গাছটিতে বিগত ১০-১৫ বছরের মধ্যে নারিকেল ধরেছে বলে মনে হয় না। স্থানীয় নিরপেক্ষ স্কুলের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য মুরুব্বী স্থানীয় বহু লোকজনকে প্রকাশ্যে ও গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তাদের কেহই উক্ত নারিকেল গাছে কখনোই নারিকেল তো দূরে থাক ডাবও ধরতে দেখে নাই। এই পর্যায়ে পারুল অপহরন নিয়ে আমার সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এগারো জন আসামীদের মধ্যে একজন কবর খননকারী; এলাকার কোন মুসলমান মারা গেলে ঐ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কবর খনন করে থাকেন। মৃতের আত্মীয়-স্বজন যদি কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেন তবে তা দিয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনজন নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালায়, তিনজন রিক্সাচালক, দুইজন কৃষি কামলা এবং অপর দুইজন গৃহিণী। অপর দিকে মামলার বাদী পারুলের পিতা লালু মিয়া একজন রিক্সা চালক কিন্তু মুলত সে একজন দাঁদন ব্যবসায়ী। উক্ত আসামীরা পারুলকে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরন করতে পারে আমি কিছুতেই এর হিসেব মেলাতে পারছিলাম না।
ইতোপুর্বে পারুলের বাবা এই লোক গুলোর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে আরো তিনটি মামলা দায়ের করেছিল। ঐ মামলা থেকে জামিন নিতে একজন গৃহিণী তার উকিলের ফি জোগাড় করার জন্য সর্বশেষ মাথা গোঁজার ঠাই তার ঘরের চালের টিন বিক্রয় করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ব্যপারটি আমি সরেজমিনে তদন্তকালে দৃশ্যমান পাই।
সীমানার নারিকেল গাছে নারিকেল ধরতে দেখেছে এমন কোন সাক্ষী ও পারুল অপহরণের কোন তথ্য প্রমান না পাওয়ায় আমি আসামী গ্রেফতার করা থেকে আপাতত বিরত থাকি। অপরদিকে পারুলের পিতা লালু মিয়া তার মেয়েকে উদ্ধার করার চেয়ে আসামী গ্রেফতার করার জন্য আমার উপর বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে করে প্রকৃতপক্ষে পারুল অপহরন হয়েছে কি না আমার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। আমি আসামী গ্রেফতার না করায় পারুলের পিতা কতিপয় হলুদ সাংবাদিকের সহয়তায় স্থানীয় কিছু অখ্যাত পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে। এরপরেও আমি আসামী গ্রেফতার করতে উদ্যোগ না নেওয়ায় পারুলের পিতা তৎকালীন পুলিশ সুপার চাঁদপুর, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ, সচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার দফতর সহ বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন যে, আমি আসামীদের নিকট থেকে ৩০,০০০/= টাকা ঘুষ গ্রহন করে তার মামলার আসামী গ্রেফতার থেকে বিরত থাকি। সব নালিশি দফতরে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও সৃষ্টিকর্তার বাহক হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর দফতরে কোন অভিযোগ দায়ের করেন নাই। কারন মহান সৃষ্টিকর্তার দফতরে মিথ্যা অভিযোগ গ্রহন করা হয় না, বোধ করি এই কথাটা লালু মিয়ার ভালোই জানা ছিল।
আমি পারুলকে উদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা সহ তদন্তের সকল কৌশল অবলম্বন করেও কোন সন্তোষজনক ফল পাচ্ছিলাম না। অপর দিকে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত বিভিন্ন দফতর থেকে শুরু হয়েছে। তখন আমার অবস্থা এমন যে “একা ভোলা কয়দিক সামলাবো”। এই পর্যায়ে আমার বিরুদ্ধে একটি তদন্তের বিবরন তুলে ধরছি।
পুলিশ সদর দফতরে সিকিউরিটি সেল নামে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার জন্য একটি সেল রয়েছে। আমাকে উক্ত মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সহ ঐ দফতরে তলব করেন। আমি যথারীতি নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হলাম। তদন্তকারী অফিসার এএসপি র‍্যাঙ্কের, বয়স অনুমান ৫০ বছর; উনাকে আমার বেশ অভিজ্ঞ মনে হল। তিনি আমার বক্তব্য মনযোগ সহকারে শুনলেন। নারিকেল গাছের ছবি সহ আমার উপস্থাপিত সকল কাগজপত্র নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলেন। সব দেখে-শুনে তাঁকে খুব গম্ভীর এবং চিন্তিত দেখালো। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন চাকরি কত দিন ধরে করছি। আমি বললাম “স্যার প্রায় তিন বছর”। তিনি আমার পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে বললেন, “ইয়াংম্যান তোমার চাকরি বেশি দিন হয় নাই, যদি পারুলকে উদ্ধার করতে পার তবে ভালো। খোদা না করুক যদি মেয়েটির লাশ পাওয়া যায় তবে তোমার চাকরি তো যাবেই জেলও খাটতে হবে”। উনার এই কথা শুনে আমার শরীর হিম শীতল হয়ে গেল আমার গায়ের সব পশম খাড়া হয়ে গেল। তিনি আমার চেহারার মলিনতা দেখে আরো বললেন, “যাও আমি তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট আপাতত দিচ্ছি না, যেকোন কৌশলেই হোক মেয়েটিকে উদ্ধার করো”। জীবনে প্রথম নিজের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ মোকাবেলা করতে এসে শুরুতে ভেঙে পড়লেও স্যারের দিকনির্দেশনা মূলক কথায় আমি কিছুটা সাহস ফিরে পাই; এটা অনেকটা লঞ্চডুবি যাত্রীর খড়কুটা আঁকড়ে ধরে বাঁচার মতন। আশা-নিরাশার দোলাচলে আমি আমার কর্মস্থলে ফিরে গেলাম।
ঐ ঘটনার তিন দিন পর, তৎকালীন এসপি চাঁদপুর মামলাটির নথিপত্র সহ তার অফিসে তলব করলেন। আমি তাঁর অফিসে হাজির হওয়ার সাথে সাথে পারুল উদ্ধারের অগ্রগতি কতটুকু জানতে চাইলেন। আমি বিমর্ষ বদনে উত্তর দিলাম, “স্যার, এখনো অপহৃতার কোন সন্ধান মেলে নাই”। তখন তিনি কড়া ভাষায় আদেশ দিলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষ জনক অগ্রগতি চাই”।
যখন আমার উপর দিয়ে ১২-১৪ নাম্বার বিপদ সংকেত বয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনি আমি জানতে পারি বাড়িতে আমার বাবা-মা আমার বিয়ের জন্য পাত্রী পছন্দ করে রেখেছেন। বাড়িতে যাওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছেন। আমি ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলাম, মনে হল ইহা যেন “মরার উপর খাড়ার ঘা”। নতুন জীবনে পদার্পনের আকুলতা উপেক্ষা করে বাবা-মাকে আমার উক্ত সমস্যার কথা না জানিয়েই চাকুরির ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে আপাতত বাড়ি আসা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেই।
এভাবেই কোন অগ্রগতি ছাড়াই মামলা তদন্তের সময়সীমা প্রায় তিন মাস চলে গেল; তদন্তের আইনগত সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। অন্যকোন গত্যন্তর না দেখে মামলার নথিপত্র সহ এসপি স্যারের অফিসে হাজির হলাম। স্যারকে জানালাম এই মামলায় আমি তিনজন লোককে সন্দেহ করেছি। এক- মুহুরী (যে মামলাটির এজাহার লিখেছে); দুই- বাদীর পক্ষের উকিল; তিন- মামলার বাদী পারুলের পিতা লালু মিয়া। অনুমতি দিলে প্রথম দুইজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কারন অশিক্ষিত বাদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৫(১) ধারার মর্মার্থ বুঝার কথা নয়। এসপি স্যার বললেন, “তোমার যুক্তিসংগত সন্দেহ হইলে তদন্তের সার্থে আটক করতে পারো”। অনুমতি পেয়ে কোর্টের সামনে একটি রেস্তোরায় বসে মুহুরীকে ফোন করে উক্ত রেস্তোরায় আসতে বললাম। পুর্বেই একটি রেইডিং পার্টি রেস্তোরার আশেপাশে নিয়োজিত রেখে ছিলাম। মুহুরী রেস্তোরায় আসা মাত্রই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। আইনজীবীর সহকারী হিসেবে অভিজ্ঞ মুহুরী কিছুতেই মুখ খুলতে চায় না। রাত্রি দশ ঘটিকায় চাঁদপুর বার ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি থানায় এসে হাজির। কারন ঐ মুহুরী অত্যন্ত ক্ষমতাধর একটি সংঘঠনের সাধারন সম্পাদক। বার ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মামলার রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মুহুরীকে ১৫ দিনের জন্য তার জামিনে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কর্তৃপক্ষের সহিত আলোচনা করে শর্ত সাপেক্ষে জিডি এন্ট্রি করে মুহুরীকে তার জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। চৌদ্দ দিন পুর্ন হওয়ার পর আমি বার ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাহেবকে ওসি স্যারের মাধ্যমে সময় শেষ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম।

এদিকে আমার বাবা-মা পাত্রী পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে আমি বাড়ি যাব পাত্র-পাত্রী উভয় উভয়কে দেখবে বলে কথা দিয়ে রেখেছেন। তারা আমাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য আবার চাপ প্রয়োগ করতে লাগলেন। আমার বাবা আমাকে ফোন করে বলেন, “তোর চাকরি করার দরকার নাই; বিয়ের ব্যপারে ছুটি না পাইলে সেই চাকুরী করার দরকার কি?”। আমার উপর দিয়ে কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে আমি কোন ভাবেই তাদের বলতে পারছিলাম না।
১৫ দিন পুর্ন হলো। নাইট ডিউটি করে সকাল আটটায় ডিউটি শেষ করে ঘুমাতে যাই এমন সময় আমার শুভাকাঙ্ক্ষী এক উকিল সাহেব আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলেন; আপনার মামলার ভিক্‌টিম পারুলকে পাওয়া গেছে এবং সে ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্পাদকের হেফাজতে আছে, একটি দৈনিক পত্রিকায় ছবি সহ ছাপানো হয়েছে। তার কথা শুনে আমি বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠলাম এবং তখনি পত্রিকার দোকানে থেকে ঐ পত্রিকাটি সংগ্রহ করলাম। পত্রিকার বিজ্ঞাপন পড়ে মামলার বাদী পারুলের বাবা কে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাই। পারুলদের বাড়িতে গিয়ে পারুলের চাচা কে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ফোর্স ও একজন সঙ্গীয় অফিসার সহ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওনা করি। আনুমানিক ঐদিন দুপুরে আমি শাহ্‌বাগ থানায় হাজির হয়ে ঐ থানার একজন অফিসার রিকুইজিশন করে প্রেস ক্লাবে যাই। পারুল তার চাচাকে দেখা মাত্রই দৌড়ে এসে ঝাপটে ধরে বাঁধ ভাঙা কান্না জুড়ে দেয়। পারুলের অকৃত্রিম কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোখে পানি চলে আসে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্পাদক সাহেবকে বিনয়ের সাথে বলি, “এই পারুল আমার … মামলার ভিক্‌টিম আমি তাকে নিতে এসেছি, তাকে আমাদের নিকট হস্তান্তর করুন; আইনকে সহায়তা করুন”। কিন্তু তিনি ভিক্‌টিমকে আমাদের হেফাজতে দিবেন না বলে অস্বীকৃতি জানান। তখন আমি বললাম, “মেয়ের চাচা আমাদের সাথে আছে আমাদের হেফাজতে দিলে তার কোন ক্ষতি হবে না”। কিন্তু তিনি দিতে চাইলেন না এবং বললেন, “চার-পাঁচ মাস হয়ে গেছে পারুল অপহরন হয়েছে আপনারা উদ্ধার করতে পারলেন না; আজ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে নিতে এসেছেন?” বলে প্রশ্ন করেন। তিনি পারুলের বাবার হেফাজতে পারুলকে দিতে চান বলে আমাকে জানান। আমি তাকে বলি আমার দীর্ঘ তদন্তে এমন একটি জায়গায় হাত দিয়েছি যার ফলে দুষ্কৃতিকারীরা বাচাঁর জন্য মেয়েটিকে প্রেস ক্লাবের সামনে নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আমার কথার কর্নপাত করলেন না তবে আমি তার মধ্যে কোন রকমের অপরাধ বোধ লক্ষ করি নাই। সুতরাং প্রায় এক রকম বাধ্য হয়েই শাহ্‌বাগ থানায় গিয়ে একটি জিডি এন্ট্রি করে চাঁদপুর চলে যাই।
পরের দিন ওসি শাহ্‌বাগ স্যারের পরামর্শে চ্যানেল আই এর একটি গাড়িতে করে “জীবন যেখানে যেমন” অনুষ্ঠানের পরিচালক এবং কলাকুশলীরা ভিক্‌টিম পারুলকে নিয়ে চাঁদপুর থানায় হাজির। ভিক্‌টিমকে তাদের নিকট থেকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উক্ত কলাকুশলী সহ পারুলদের বাড়িতে গেলে ঐ গ্রামের বর্তমান ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চ্যেয়ারম্যানগন সহ স্থানীয় হাজার হাজার লোক পারুলকে দেখার জন্য সমবেত হয়। পারুলের বাড়িতে পা রাখা মাত্রই পারুল দৌড়ে গিয়ে তার মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। পারুলের অকৃত্রিম কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোখে পানি চলে আসে কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে পারুলের মায়ের চোখে একফোটা পানিও দেখা যায় নাই। এথেকে উপস্থিত সকলেই বুঝতে পারে পারুল অপহরন ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক ভিন্ন আর কিছুই নয়। তখন সকলেই পারুলের পিতা লালু মিয়াকে খুজতে শুরু করে কিন্তু তাকে কোথাও দেখা যায় নাই।
পারুলকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হইলে জাগতিক লীলা-খেলা ও কল্পিত অপহরন সম্পর্কে অনবগত নিষ্পাপ শিশু পারুল বিজ্ঞ আদালতে তার জবানবন্দীতে প্রকাশ করে –আনুমানিক চার মাস পুর্বে তার পিতা তাকে কচুয়া থানাধীন এক আত্মীয়ের বাসায় রেখেছিল। সেখান থেকে তিন মাস পর তাকে ঢাকায় একটি বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে নিয়োজিত করে; ঐ বাড়িতে সে ঘর মোছা, থালা বাসন ধোয়ার কাজ করত। বিগত তিনদিন পুর্বে তার পিতা একটি সিএনজি অটোরিক্সা করে ঢাকায় প্রেস ক্লাবের গেইটে বসিয়ে রেখে এখনি আসছি বলে চলে যায়। দীর্ঘক্ষন ধরে তার পিতা ফিরে না আসায় সে কান্নাকাটি করিলে প্রেস ক্লাবের দারোয়ান তাকে ভিতরে নিয়ে সাধারন সম্পাদক সাহেবের নিকট বুঝিয়ে দেয়।
এর পরের ঘটনা আরো করুন, সপ্তাহ খানিক পর লালু মিয়া চাঁদপুর শাপলা চত্বরে আমাকে দেখে আকস্মিক আমার পা জড়িয়ে ধরে বলে, “স্যার মুহুরী আমাকে বলেছিল আমার মেয়েকে খুন করে লাশ ফেলে দিতে তবে মামলার দারোগা সহ সকল আসামী গ্রেফতার হবে। আমি আমার মেয়েকে খুন করতে নিয়েও তা করতে পারি নাই; হাজার হোক আমারই তো মেয়ে”। তখন আমার সেই সিকিউরিটি সেলের স্যারের কথা মনে পড়ে গেল। আমি লালু মিয়া কে তুলে নিয়ে তার প্রতি শত রাগ থাকলেও তার সত্য কথনে আমার সমস্ত রাগ নিমিষে উবে গেল।
সীমানার একটি নারিকেল গাছের বস্তুগত সাক্ষ্যের কারনে এগারো জন নিরপরাধ মানুষ মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে রক্ষা পেল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তার উপর দিয়ে হাজারো কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেল। এই পুরো ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ধারন করে চ্যানেল আই এর “জীবন যেখানে যেমন” অনুষ্ঠানের পরিচালক চ্যানেল আই তে একাধিক বার প্রচার করেছিলেন।

লেখক: স্মৃতির পাতা থেকে
মোহাম্মাদ আইয়ুব
অফিসার ইনচার্জ,
লালমাই থানা,কুমিল্লা।

বিঃদ্রঃ যাকে প্রথম দেখার জন্য হৃদয়ের হাজার আকুলতা সত্বেও সেসময় দেখতে যেতে পারিনি, তাকে নিয়েই আজ ১৬ই মে যুগল জীবনের ১২ টি বৎসর পূর্ণ করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ্।

মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, হত্যা না আত্মহত্যা : কুমিল্লার সময়





লালমাই প্রতিনিধি :  
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের কাকসার গ্রামের মরিয়ম (৪০) এর মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের। এটি কি আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যাকান্ড- তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। গত ৯ মে শনিবার ভোরে প্রতিদিনের মত হাঁটতে যান মরিয়ম। সকাল ৯ টায় খবর পায় তার বাড়ীর থেকে এক কিলোমিটার দূরে হাড়গিলায় রেলে কাটা পরে আছে মরিয়মের লাশ। 
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় মরিয়মের স্বামীর বাড়ী কুমিল্লার শাকতলায়। তার স্বামী শহীদউল্যা একজন প্রবাসী। তাদের সংসারে দুই মেয়ে আছে। একজনকে বিয়ে দিয়েছে ছোট মেয়েটি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। মরিয়ম তার মায়ের মৃত্যুর পর কাকসারে পৈত্রিক ভিটায় পিতার দান কৃত দুই শতক জায়গাতে ঘর তুলে প্রায় বার বছর ধরে  বসবাস করতে আসছেন। তার পিতা আবদুল জলিল ও ছোট মেয়ে সহ একই ঘরে থাকতেন তারা।   

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন মরিয়মের ছোট ভাই হাসানের ২০১৮ সালে বিয়ে হয় উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের আবুল কালামের মেয়ের সাথে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কলহ বিবাদ লেগে থাকে। এগুলো নিয়ে তার ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন কাজী আবুল সহ অন্যরা বিভিন্ন সময় তাকে শাসাত। এনিয়ে শালিস দরবারও হয়। শালিস দরবারের একদিন পরেই রেলে কাটা পরে মৃত্যু হয় মরিয়মের। লকডাউনের সময় রেলযোগাযোগ বন্ধ দু'একটা মাল গাড়ি চলাচল করছে। মরিয়ম শক্ত-সামর্থ্যই ছিলো কিভাবে রেলগাড়ীর নিচে পড়লো তাই তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট খুলছে না। 


এ ব্যাপারে লাকসাম রেলওয়ের থানা জি আর পি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নিজাম উদ্দীন বলেন, লকডাউনের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ গত ৯মে শনিবার সকালে মাল গাড়ি ট্রেন যাওয়ার সময় মহিলা কাটা পরে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্ত করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।