Sunday, 16 February 2020

মেয়াদোত্তীর্ণ-নকল ওষুধ প্রতিরোধে ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রির লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক সভা : কুমিল্লার সময়

 




মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে,প্রেসক্রিপশন বিহীন এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ঔষধ বিক্রির কল্পে বাংলাদেশ কেমিস্টস্ অ্যান্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার জেলার ১৭ টি উপজেলার ঔষধ ব্যবসায়ীদের নিয়ে জনসচেতনতা মূলক সভা টাউন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। 
বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিষ্টস্ সমিতির কেন্দ্রীয় পরিষদের পরিচালক ও কুমিল্লা জেলা কেমিস্টস্ ড্রাগিষ্টস সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা - ৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার, বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিব রহমান, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মোঃ সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিষ্টস্ সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম কেমিস্টস্ ড্রাগিষ্টস্ সমিতির সভাপতি বাবু সমীর কান্তি সিকদার, লাকসাম কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিষ্টস্ এর সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল হাছান, সহ- সভাপতি আবুল কালাম, সহ - সভাপতি কামরুল হাসান,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সুইট, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন সিংহ, সহ- দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান মজুমদার প্রমুখ। 


এসময় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের ব্যাপারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই সচেতন হতে বলেন। তারা জনসাধারণকে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ দেখে ঔষধ ক্রয় এবং ঔষধের সঙ্গে নিবন্ধন আছে কিনা অর্থাৎ ঔষধের মোড়কে ডিএআর (DAR) বা এমএ (MA) নম্বর আছে কিনা তা দেখে ক্রয় করার অনুরোধ করেন। 

এছাড়া অন্য  বক্তারা বলেন, বিক্রয়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ফার্মেসির সেলফ, ড্রয়ার কিংবা রেফ্রিজারেটর অথবা ফার্মেসির অন্য কোথাও পাওয়া গেলে সেগুলো জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ আলাদা কন্টেইনারে লাল কালি দিয়ে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ, বিক্রির জন্য নয়’- এটি লিখে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুতই সেগুলো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া গেলে ফার্মেসিটি সিলগালা করে বন্ধ করাসহ মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা পর্যন্ত নেওয়া হবে পারে। 

‘প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার ফার্মেসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফার্মেসি পরিদর্শনে আসবেন। সে সময় ফার্মেসিতে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া গেলে আলাদা কন্টেইনারে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ, বিক্রির জন্য নয়’ লাল কালি দিয়ে এ কথা লিখে সংরক্ষণ করতে হবে। এবং এই বিষয়ে রেকর্ডও সংরক্ষণ করতে হবে।’ 

এছাড়াও বক্তারা এফইএফও (FEFO-First Expiry First Out) পদ্ধতি ঔষধ ব্যবস্থাপনায় অনুসরণের নিমিত্তে কম্পিউটার বা আইটিভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ সনাক্তকরণের পরামর্শ দেন।

বক্তারা আরও বলেন, ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন ও ফার্মাসিস্টবিহীন ফার্মেসি ব্যবসা আর পরিচালনা করা যাবে না। ফার্মেসিতে আইনতভাবে ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া আনরেজিস্টার্ড, নকল, ভেজাল, মিসব্র্যান্ডেড ও কাউন্টারফেইট ঔষধ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, সরকারি ঔষধ, রোগ নিরাময় করে এমন ফুড সাপ্লিমেন্ট ফার্মেসিতে মজুদ ও বিক্রয় করা যাবে না। নকল, ভেজাল ও আনরেজিস্টার্ড ঔষধ বিক্রয় বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি (OTC- Over the Counter Drugs) ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্য কোনো ঔষধ বিক্রি করা যাবে না।

এছাড়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কিংবা নির্দেশক মূল্যের চাইতে অধিক মূল্যে ঔষধ বিক্রয় করা যাবে না। ঔষধ ক্রয়-বিক্রয়ের ডকুমেন্টস সংরক্ষণ করতে হবে। ঔষধ বৈধ সোর্স হতে ইনভয়েসের মাধ্যমে কিনতে হবে। এছাড়া তাপ সংবেদনশীল ঔষধগুলো ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য সব ঔষধই নির্দেশিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।

No comments:

Post a Comment